লক্ষ্মীপুরে আ.লীগের সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত ১৫

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৩, ০২:৪৫ এএম

লক্ষ্মীপুরে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিকে কেন্দ্র করে দু-পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। গত বুধবার রাতে চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ ও পুলিশের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৫ পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।

এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে ১৬৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ বাজারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী সোলায়মান ও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সমর্থকরা এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় আহত হন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই জাকির হোসেন, চন্দ্রগঞ্জ থানার এসআই আব্দুর রহিম ও কনস্টেবল মোজাম্মেল হোসেন এবং ছাত্রলীগ কর্মী আকবর হোসেন, আব্দুর রহমান, হাসান, রাজু ও রাজিবসহ অন্তত ১৫ জন। এরমধ্যে আকবর হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় জেলার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া আহত পুলিশ সদস্যদের সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আটক করা সফিকুল ইসলাম শিপন খলিফা, রিয়াজ হোসেন জয়, ছাত্রলীগের নেতা এম সজীব ও রিফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আটককৃত ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

কাজী সোলাইমান ও লিটন নিজেদের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক দাবি করে বলেন, কমিটি বাতিল না করে গোপনে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও কামাল হোসেন পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে।

প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন বলেন, বিনা উসকানিতে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আনন্দ মিছিলে কাজী সোলাইমান ও লিটনের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর বাইরে আর কোনো কমিটি নেই। কেউ কমিটি দাবি করলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া গোলাম ফারুক পিংকু জানান, চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে একটি চিঠি দেয়। পরে সেই চিঠিকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়। পরে রাতে সেই ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে দেখা হচ্ছে। 

পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাজারে কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত