দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নমনীয় ঋণ দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৩০০ কোটি ডলারের দুটি অর্থায়ন চুক্তিতে সই করেছে বাংলাদেশ।
গত রবিবার কোরিয়া সরকারের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তি দুটিতে সই করেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরীফা খাতুন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও অর্থায়ন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপমন্ত্রী সিয়ং উক কিম।
স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর আওতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে ১ শতাংশ সুদে ও ৩০ বছরে পরিশোধের মেয়াদে ঋণ পাওয়া যাবে। গ্রেস পিরিয়ড থাকবে ৭ বছর। ঋণের ব্যবস্থাপনা ফি হবে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। আর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পের ঠিকাদার নির্বাচন করতে হবে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লেটার অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এলওইউ) ও কো-অপারেশন অ্যারেঞ্জমেন্ট (সি/এ) নামক এ দুই চুক্তির অধীনে ২০২৩-২৭ মেয়াদে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটির (ইডিপিএফ) মাধ্যমে ৩০০ কোটি ডলার বা ৩ বিলিয়ন ডলারের সহজ শর্তের ঋণ দেবে দক্ষিণ কোরিয়া।
একই সঙ্গে আর্থিক সহায়তার চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক তায়ে-সো কিম।
স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর আওতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে ১ শতাংশ সুদে ও ৩০ বছরে পরিশোধের মেয়াদে ঋণ পাওয়া যাবে। এতে গ্রেস পিরিয়ড থাকবে ৭ বছর। ঋণের ব্যবস্থাপনা ফি হবে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, আর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পের ঠিকাদার নির্বাচন করতে হবে।
আর্থসামাজিক, অবকাঠামো ও আইসিটি (তথ্যপ্রযুক্তি) খাতে ১৯৯৩ সাল থেকেই তাদের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নমনীয় বা সহজ শর্তের ঋণ দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।
কোরিয়ার অর্থসহায়তায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬২ কোটি ডলার ব্যয়ে ১৬টি প্রকল্প শেষ হয়েছে। ৬১ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের আরও সাত প্রকল্পের কাজ চলছে। সহজ শর্তে বাংলাদেশকে মোট ১৩১ কোটি ডলার ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা সরঞ্জাম উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য জাপান বাংলাদেশকে ৯৯ কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৭৫ কোটি টাকা) অনুদান দেবে। এ বিষয়ে গতকাল বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ইআরডি কার্যালয়ে গতকাল সোমবার ইআরডি সচিব শরিফা খান ও জাইকার বাংলাদেশ অফিসের মুখ্য প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহিদে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়ে বলা হয়, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিটিসি), ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (ডিপিআই) ও ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিটের (ডিএমআই) ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের জন্য এই অনুদান ব্যবহার করা হবে। নির্ধারিত প্রযুক্তির (ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, মেকানিক্যাল ও কম্পিউটার) সরঞ্জামাদি স্থাপন এবং ল্যাবরেটরি বা ওয়ার্কশপ সংস্কারের জন্য এই অনুদান ব্যবহার করা হবে।
উল্লিখিত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহে এ বিষয়গুলোর শিক্ষক বা প্রশিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এই প্রকল্পের অন্তর্গত।
জাপান বাংলাদেশের একক বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার।
বাংলাদেশের উন্নয়নে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সহজ শর্তে ঋণদান ছাড়াও জাপান বাংলাদেশকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষাসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান প্রদান ও বিভিন্ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।
