নগর ভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ-ছাত্রলীগের বাধা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩, ০১:৪৪ এএম

বর্ধিত কর প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদের নগর ভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পরিষদের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে দেওয়ানহাট হয়ে টাইগারপাস মোড়ে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। ফিরে যাওয়ার সময় পরিষদের নেতাকর্মীরা টাইগারপাস মোড়ে অবস্থান নেন। সেখানেও তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন ছাত্রলীগের একদল কর্মী। পরে করদাতা সুরক্ষা পরিষদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে নগর ভবনে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নোবেল চাকমা বলেন, নগর ভবন ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নগর ভবনে যেতে দেওয়া হয়নি। পরে তাদের একটি প্রতিনিধিদল মেয়রকে স্মারকলিপি দিতে গেছে। এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নগরের কদমতলীর আবুল খায়ের মার্কেট চত্বর  থেকে মিছিল বের করে করদাতা সুরক্ষা পরিষদ। মিছিলটি নগরের কদমতলী মোড়, দেওয়ানহাট হয়ে দুপুর ১২টার দিকে টাইগারপাস মোড়ে এসে উপস্থিত হয়।

এর আগে গতকাল সকাল সোয়া ৯টার দিকে নগর ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ। ফলে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কেউ নগর ভবনে ঢুকতে পারেনি। এতে বিপাকে পড়েন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় কর্মচারীরা টাইগারপাস সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে সাড়ে ১০টার দিকে ফটক খুলে দেওয়া হয়। তবে ফটকে তালা দেওয়ার সঙ্গে করদাতা পরিষদের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী তৌহিদুল ইসলাম।

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সময় ২০১৭ সালে কর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছিল। পুনর্মূল্যায়নের পর নগরের বার্ষিক কর নির্ধারণ করা হয় ৮৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পুরনো নিয়মে তা ছিল ৩৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। নতুন কর পুনর্মূল্যায়নের পর সরকারি খাতের করদাতা প্রতিষ্ঠান দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৪৭টি। এর বিপরীতে বার্ষিক কর নির্ধারণ করা হয় ২৮০ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতে ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান দাঁড়ায় ১ লাখ ৮২ হাজার ৭০০। বিপরীতে বার্ষিক কর ধরা হয় ৫৭১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

স্থাপনার আয়তনের পরিবর্তে ভাড়ার ভিত্তিতে এই কর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এর বিরুদ্ধে করদাতা সুরক্ষা পরিষদসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন তখন আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের মুখে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর তা স্থগিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের আমলে এই কর পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম আর বাস্তবায়িত হয়নি। গত ১৮ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গত জুলাই থেকে তা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন। এখন তা আদায়ের কার্যক্রম চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত