বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় আ স ম ফিরোজের সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের আলোচনা সভার ব্যানারে স্থানীয় সংসদ সদস্য মমিন মন্ডলের নাম না থাকা ও তাকে আগে ফুল দিতে না দেওয়ার জেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। গতকাল সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পটুয়াখালীর বাউফলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপনে চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এর মধ্যে এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। আরেক পক্ষে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। আরেকটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার। এ ছাড়াও হাসিব আলম তালুকদারের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোতালেব হাওলাদার তার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয় জনতা ভবনের দিকে রওনা হলে উপজেলা পরিষদের সামনের ফটকে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে লাঠিপেটা পরে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। বাধা উপেক্ষা করে মোতালেব হাওলাদার নেতাকর্মীদের নিয়ে জনতা ভবনের দিকে এগিয়ে গেলে আ স ম ফিরোজ সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করেন। এতে মোতালেব হাওলাদারসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় উত্তেজিত নেতাকর্মীদের ইটপাকেলের আঘাতে আহত হন পুলিশসহ আরও ১০ জন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শোয়েব মাহমুদ জানান, মোতালেব হাওলাদারের শরীরে বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র ও লাঠির আঘাত রয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়াও রিপন নামে তার এক কর্মীর শরীরে রাবার বুলেটের একাধিক আঘাত থাকায় তাদের দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাউফল থানার ওসি আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন গ্রুপের পক্ষ থেকে র্যালি কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে সবাইকে সময় বেধে দিয়ে স্ব-স্ব স্থান থেকে র্যালি বের করতে বলা হয়। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান সমর্থিত নেতাকর্মীরা বাধা উপেক্ষা করে দলীয় কার্যালয়ের (আওয়ামী লীগের) দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ২০-৩০ জন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের দিকে রওনা হলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়।’
ব্যানারে এমপির নাম না থাকায় সংঘর্ষ : বেলকুচির সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামাল হোসেন (৩৮), যুবলীগ নেতা রুবেল (২৮), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোপাল (৪৫) ও ওলিফ মন্ডল (৫০)। জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভার ব্যানারে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য ও বেলকুচি আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মমিন মন্ডলের নাম ছিল না। বিষয়টি কেন্দ্র করে এমপি মমিন সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আশানুর বিশ্বাস সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। আহতদের উদ্ধার করে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেলকুচি পৌরসভার সাবেক মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস বলেন, ‘নেতাকর্মীদের নিয়ে সকাল পৌনে ৭টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হই। সকাল ৭টার দিকে এমপি আব্দুল মমিন মন্ডল আসার পর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্য প্রদান ও পুস্পস্তবক অর্পণের আগেই দলীয় কার্যালয়ে টানানো ব্যানারে এমপির নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে এমপির লোকজন আমার ওপর চড়াও হয়। আমি বলি, এটা দলের ব্যানার। এখানে শুধু বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রীর ছবি আর নাম থাকবে। নিচে আয়োজনে উপজেলা আওয়ামী লীগ লেখা রয়েছে। কিন্তু তারা সেটা মানতে নারাজ। উত্তেজিত হয়ে ব্যানার ছিড়ে ফেলে এবং আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করে।’
সংঘর্ষের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কেএম হোসেন আলী হাসান বলেন, ‘আজকের এই দিনে (বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন) বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’
বেলকুচি থানার ওসি আসলাম আলী জানান, আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
