সদ্য শেষ হওয়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থিরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সরকারপন্থিরা দাবি করেছেন, নির্বাচন একতরফা হয়নি, গ্রহণযোগ্য হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনকে প্রহসন দাবি করে ওই দিন পুলিশের তা-বের ঘটনায় আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপিপন্থিরা।
নির্বাচনের পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রবিবার দুই পক্ষই সংবাদ সম্মেলন করে।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। প্রথম দিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মারামারি, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের পুলিশের বেধড়ক পিটুনি, ভাঙচুর এক কলঙ্কজনক ঘটনার জন্ম দেয়। পরদিনও দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এই হাঙ্গামার ভোটে সুপ্রিম কোর্ট বারের ১৪টি পদের সব কটিতে বিজয়ী হন আওয়ামীপন্থিরা।
ভোটের পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন সরকারপন্থি আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল)। সমিতির সদ্য নির্বাচিত সভাপতি অ্যাডকোটে মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল বক্তব্য দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, ‘এটা একতরফা নির্বাচন নয়। সমিতির বেশির ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তারা (নীল প্যানেল) নির্বাচন বর্জন করেনি। কিন্তু নির্বাচন বানচাল করতে ভাঙচুর করেছেন। ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলেছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় অন্য কোথাও যেহেতু নালিশের সুযোগ নেই, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।’
সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল বলেন, ‘ওকালতনামা নিয়ে দুর্নীতির কারণে সাধারণ আইনজীবীরা তাদের (নীল প্যানেল) পক্ষে ছিল না। তারা এসব করেছে নির্বাচন থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছেন। নির্বাচনের আগে থেকে তাদের অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে তারা যা করেছেন, এর চেয়ে নমনীয় হওয়ার সুযোগ ছিল না। পুলিশের আচরণ কী হবে এটি নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। নির্বাচনের দিন তারা যা করেছে, এতে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যা দায়িত্ব তারা তাই করেছে।’
তবে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন সরকারপন্থি আইনজীবীরা।
এর আগে লিখিত বক্তব্যে আব্দুন নূর দুলাল বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পদত্যাগকারী আহ্বায়ক মুনসুরুল হক চৌধুরী কঠোর নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এলিট ফোর্সের সহায়তা চেয়ে প্রধান বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেন।
তাদের সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের দক্ষিণ হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন নীল প্যানেলের বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সম্পাদক পদে অংশ নেওয়া রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘অন্য সব নির্বাচনের মতো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সমিতির নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যে রাজনৈতিক চরিত্র তার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আইনগতভাবে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও নির্বাচনের নাটক সাজিয়ে একতরফাভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অবৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে।’
পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রার্থী তাকে (নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পদত্যাগকারী আহ্বায়ক) দিয়ে তাদের সরবরাহ করা ব্যালটে ভোট গ্রহণ ও অনৈতিক ভোট ডাকাতির ফলাফল ঘোষণায় রাজি করাতে না পেরে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে।’
এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, মহাসচিব কায়সার কামাল, নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
