বাঘাবাড়ী বন্দরে জাহাজ আসছে না কর্মহীন ৫ শতাধিক শ্রমিক

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৩, ১২:০০ এএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দর গত দুই যুগেও প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়নি। নাব্য সংকটের কারণে নৌরুটের প্রায় ১০টি পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী পানি না থাকায় পূর্ণলোডে রাসায়নিক সারবাহী কার্গো জাহাজ এ বন্দরে আসতে পারছে না। ফলে গত ৩ মাস ধরে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর জাহাজশূন্য হয়ে অচল হয়ে পড়েছে। জাহাজ না আসায় লোকসান গুনছেন বন্দরের ইজারাদাররা। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক।

জানা যায়, বাঘাবাড়ী-চট্টগ্রাম-মোংলা নৌবন্দর রুটের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ১০/১২ ফুট ড্রাফটের পানির চাহিদা থাকলেও আছে সাড়ে ৭ ফুটের মতো। তাই চট্টগ্রাম ও মোংলা নৌবন্দর থেকে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরগামী রাসায়নিক সার, কয়লা, পাথর, সিমেন্ট ও জ¦ালানি তেলবাহী কার্গো-জাহাজ পূর্ণলোড নিয়ে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে যেতে পারছে না। ফলে পাটুরিয়া ও নগরবাড়ীর আগেই লাইটারেজের মাধ্যমে জাহাজ থেকে অর্ধেক মাল আনলোড করে বেড়া, নগরবাড়ী ও যশোরের নওয়াপাড়া ঘাটে খালাস করছে পরিবহন ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ। এসব সার নগরবাড়ী, বেড়া ও যশোরের নওয়াপাড়া থেকে আবার ১০ চাকা অথবা ১৬ চাকার ট্রাকে করে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের বাফার গুদামে এনে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে মহাসড়কের চরম ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি সময়ক্ষেপণের কারণে উত্তরাঞ্চলের কৃষক সঠিক সময়ে সার পাচ্ছে না। এছাড়া বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ না আসায় বন্দরে কর্মরত প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।

বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের শ্রমিক দুলাল সরদার, কফিল সরদার, শামছুল সরদার, আলমগীর হোসেন, ওমর ফারুক ও জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত ৪০ বছরেও বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে এভাবে জাহাজশূন্য হয়নি। ডুবোচর ও নাব্য সংকটের কারণে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ আসছে না। ফলে বন্দরের ৫ শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বন্দরের লেবার এজেন্ট আবদুস সালাম বলেন, ‘মোহনগঞ্জ, মোল্লার চর, ব্যাটারির চর, পাটুরিয়া, নিকলি ও দাসকান্দি এলাকায় নদীর পানি কম থাকায় পূর্ণলোডে পণ্যবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে রাসায়নিক সার পরিবহনের ৪ ঠিকাদার কোম্পানি কুষ্টিয়া ও নওয়াপাড়ার হওয়ায় তারা নাব্য সংকটের অজুহাতে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে সার না এনে নওয়াপাড়া নিয়ে আনলোড করছেন। ফলে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরটি অচল হয়ে পড়েছে।’

বন্দরের অপর লেবার এজেন্ট আবুল সরকার বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা দিয়ে বাঘাবাড়ী ঘাট ইজারা নিয়েছি। জাহাজ না আসায় আমাদের প্রায় ৫ শতাধিক লেবার বেকার হয়ে পড়েছে। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে অবস্থিত পরিবহন ঠিকাদার কোম্পানি বাল্ক ইন্টারন্যাশনাল ও দেশবন্ধুর উত্তরাঞ্চল প্রধান শাহান শাহ বলেন, ‘গোয়ালন্দ-দৌলতদিয়ার দাসকান্দি এলাকায় নাব্য সংকট সবচেয়ে বেশি। এখান থেকে লাইটারেজে করে প্রতি বস্তা সার বাঘাবাড়ী বন্দরে নিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। এতে আমার কোম্পানির লোকসান হয়। এ লোকসান ঠেকাতে বাঘাবাড়ীতে সারবাহী জাহাজ আসে না। আমরা সরকারকে অনেক বলেছি এই নাব্য সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু গত ২০ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।’

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের নৌপথে কোনো নাব্য সংকট নেই। এখানে ৮ থেকে ১০ ফুট পানির ড্রাফট রয়েছে। এটা দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দর। ফলে এ বন্দর চ্যানেলে নিয়ম অনুযায়ী ৭ থেকে ৮ ফুট ড্রাফটের জাহাজ চলার কথা। নিয়ম অমান্য করে সেখানে ১০/১২ ফুট ড্রাফটের জাহাজ নিয়ে গেলে তো সমস্যা হবেই। তবে বন্দরটি প্রথম শ্রেণির বন্দরে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। এটি হয়ে গেলে এ সমস্যা আর থাকবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত