সব দল অংশ নিলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে : সিইসি

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:০৩ এএম

ইভিএম বা ব্যালট নয়, সংকট রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। রাজনৈতিক সংকট দলগুলোকেই নিরসন করতে হবে। সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, আমরা সবসময় বিশ্বাস করেছিলাম যে ব্যালটের চেয়ে ইভিএমে ভোট অনেক বেশি নিরাপদভাবে গ্রহণ করা সম্ভব। কাজেই শতভাগ নিশ্চিত করার কথা আমি বলতে চাচ্ছি না। ব্যালটে ভোট করার সিদ্ধান্ত কোনো চাপে নয়। কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। ব্যালটের চেয়ে ইভিএম নিরাপদ বেশি। কারচুপি বন্ধ করা সহজ।

ইভিএম বা ব্যালট কিন্তু আমাদের নির্বাচনের মোটেই বড় চ্যালেঞ্জ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকে বলেছি সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সে লক্ষ্যে আমাদের প্রয়াস শেষ পর্যন্ত অব্যহত থাকবে। আমরা জোর করে কাউকে আনতে পারছি না। কিন্তু আপিল আমরা করেই যাব। আমাদের কথায় যে সাড়া দেবেন তাও নয়। সংকট সরকারের সঙ্গে দলগুলোর হয়ে থাকে বা সরকারি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের হয়ে থাকে। আমরা বলব রাজনৈতিক সেই সংকটগুলো আপনারাই নিরসন করে নির্বাচনকে সহজ এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য অনুকূল করে দেন।

রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ইসির বিশেষ কোনো ভূমিকা থাকে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে ইসি কোনো বড় ধরনের রোল প্লে করতে পারবে না। আপনারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করুন। বিরোধ থাকলে মিটিয়ে ফেলেন। সব দল অংশগ্রহণ করলে নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। সুষ্ঠু ভোটের ক্ষেত্রে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না। সুষ্ঠু ভোট করতে চেষ্টা করব।

অর্থ না পাওয়ায় ইভিএম থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছি জানিয়ে সিইসি বলেন, আমরা সবকিছু বুঝেশুনে ১৫০টা আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে ইভিএমে ভোট করতে সরকারের কাছে চাওয়া অর্থের প্রস্তাবে তারা রাজি হয়নি। তবে যদি আমরা অর্থ পেতাম তাহলে আমরা করতাম (ইভিএমে নির্বাচন)। ৯ হাজার কোটি চেয়েছিলাম, সেটা যদি পেতাম তা দিয়ে করতে পারতাম। সেটাতে সরকার রাজি হয়নি। এরপর মেরামতের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা চেয়েছিলাম, সেটাতেও সরকার বিভিন্ন কারণে রাজি হয়নি।

ইভিএম নিয়ে সিদ্ধান্ত দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। দুজন বলেছে ২০ থেকে ৩০টি হোক। আমরা তিনজন আবার বললাম না, করছি না। যার ফলে এই সিদ্ধান্ত এলো।

আগাম ভোটের কোনো প্রশ্ন আসেনি জানিয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আগাম ভোটের কোনো প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি না। অ্যাকাডেমিকলি আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, ওটাকে কেউ মিসকনসিভ করে প্রচার করেছে যে, আগাম নির্বাচনের সম্ভবনা আছে। এটা একেবারেই সঠিক নয়। আমরা ডিসেম্বরের শেষ অথবা আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত