ব্রেন স্ট্রোকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৩, ১২:০৪ এএম

কোনো কারণে মস্তিষ্কের নিজস্ব রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে স্নায়ুকোষ নষ্ট হয়ে যাওয়াকে স্ট্রোক বলে। স্ট্রোককে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় সেরিব্রো ভাসকুলার অ্যাকসিডেন্ট বলা হয়। মস্তিষ্কের বিভিন্ন জায়গা আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজের জন্য নির্দিষ্ট থাকে। তাই মস্তিষ্কের কোথায়, কতটুকু আক্রান্ত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে স্ট্রোকের ভয়াবহতা।

কারণ : ১. মস্তিষ্কের রক্তনালিতে কোনো কিছু জমাট বাঁধলে : রক্তের নালি বন্ধ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের আক্রান্ত অংশের স্নায়ুকোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। ২. মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটলে : উচ্চ রক্তচাপ এই স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। যেখানে ছোট ছোট রক্তনালি ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হয়, ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে চাপ বেড়ে যায় এবং অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলো মারা যায়।

লক্ষণ : ১. অতিরিক্ত মাথাব্যথা। ২. মুখ, হাত ও পা অবশ হয়ে যাওয়া। অনেক সময় মুখের মাংসপেশি অবশ হয়ে লালা ঝরতে থাকে। ৩. হঠাৎ কথা বলতে এবং বুঝতে সমস্যা হওয়া। ৪. হঠাৎ এক চোখে অথবা দুই চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া। ৫. হঠাৎ ব্যালেন্স বা সোজা হয়ে বসা ও দাঁড়াতে সমস্যা হওয়া, মাথা ঘুরানো এবং হাঁটতে সমস্যা হওয়া।

স্ট্রোকের ঝুঁকিতে যারা : বয়স ৫০-এর ওপরে হলে কিংবা পরিবারে স্ট্রোকের রোগী থাকলে। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলস্টেরলে ভুগলে, ধূমপায়ী হলে, ডায়াবেটিস থাকলে, আগে স্ট্রোক করলে, অ্যালকোহলিক হলে, রক্তের নালিতে কোনো সমস্যা থাকলে।

চিকিৎসা : ওষুধ স্ট্রোক রোগীকে মেডিকেলি স্ট্যাবল করতে পারলেও তার শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে না। স্ট্রোক-পরবর্তী সমস্যাগুলো দূর করে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। তাই রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাবে। স্ট্রোকের পর যত দ্রুত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করা যাবে, রোগীর কার্যক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।

স্ট্রোক পরবর্তী চিকিৎসা : একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেস্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেস্ট, বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেস্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে কী ধরনের স্ট্রোক হয়েছে এবং শারীরিক সমস্যাগুলো নির্ণয় করে থাকেন। অতঃপর রোগীর সমস্যানুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা বা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান করেন এবং সেই প্ল্যান অনুযায়ী নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকেন।

স্ট্রোকের প্রাথমিক অবস্থায় ফিজিওথেরাপি : ১. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিককরণ ২. সঠিক পজিশনিং ৩. মাংসপেশির স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য বজায় রাখা

স্ট্রোকের ২-৩ সপ্তাহ পর ফিজিওথেরাপি : ১. মাংসপেশির স্বাভাবিক টান ফিরিয়ে আনা ২. শরীরের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট ফিরিয়ে আনা ৩. শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের স্বাভাবিক নাড়ানোর ক্ষমতা বা মুভমেন্ট ফিরিয়ে আনা ৪. ব্যালেন্স ও কো-অর্ডিনেশন উন্নত করা এবং স্বাভাবিক হাঁটার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা ৫. রোগীর কর্মদক্ষতা বাড়ানো ৬. রোগীর মানসিক অবস্থা উন্নত করা ৭. রোগীকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে যেতে সাহায্য করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত