স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটি’র উদ্যোগে রায়েরবাজারে ২৭ জন অসহায় ও বিধবা নারীকে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে একটি করে সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার সংগঠনের রায়েরবাজারের ‘সোসাইটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’-এ সনদপত্র ও সেলাই মেশিন হস্তান্তর করা হয়।
দারিদ্র্যবিমোচন ও বিধবা নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২১ সালে রায়েরবাজারে ‘সোসাইটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করে দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে অসহায় ও বিধবা নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র এবং বিনামূল্যে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। এর আগে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩৬ জন নারীকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা সংসারের ভরণ-পোষণ সংগ্রহ ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখছে।
উম্মে রুমান নামে এক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, ‘আমি সোসাইটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়েছি। সেটা দিয়ে আমার পরিবারের সবার কাপড় তৈরি করি। পাশাপাশি অন্যদের কাপড়ও তৈরি করে দিই। এর আয় দিয়ে আমার সংসার চালাচ্ছি, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাচ্ছি। আমি এই আয় থেকে মসজিদেও দান করতে পারি।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে দেশের অসহায় দরিদ্রদের জন্য সারা বছর সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটি বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও আমাদের সেবাকার্যক্রম চলমান থাকবে এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকব।’
সহসভাপতি নাহিদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা মানুষের কল্যাণে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করছি। সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেলাই মেশিন দিয়ে সমাজের অসহায় ও বিধবা নারীদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছি। আমরা তাদের ওপরে ওঠার পথ দেখিয়ে ছেড়ে দিচ্ছি না, কীভাবে সেই পথে চলবে তাও দেখিয়ে দিচ্ছি। আমরা তাদের মেশিনের চাকা ঘোরানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তারা যত মেশিনের চাকা ঘোরাবে তত বেশি তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে।’
সংগঠনের সভাপতি শরীফ মোহাম্মদ বলেন, ‘সোসাইটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নিয়ে আমাদের বৃহৎ পরিকল্পনা আছে। দেশের সামর্থ্যবান ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে অসহায় নারীদের নিয়ে আমাদের উদ্দেশ্যগুলো সহজে বাস্তবায়ন করতে পারব।’
