অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট ফের জমজমাট চেহারায় ফিরতে শুরু করেছে। পুড়ে যাওয়া ২২৫টি দোকান ছাড়া অন্যান্য দোকানে পুরোদমে চলছে বেচাকেনা।
তিনতলা মার্কেটটিতে বৈধ দোকানের সংখ্যা ১২২৪টি। এ ছাড়া বারান্দা, রেলিংসংলগ্ন ও হাঁটার জায়গায়ও দোকান বসানো হয়েছিল। অধিকাংশ দোকানেই নতুন করে মাল তুলে ব্যবসা করছেন দোকানিরা।
গতকাল বুধবার মার্কেটটিতে বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়েছে। ক্রেতাদের উপস্থিতিও ভালো বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মার্কেট ঈদের আগে চালু করা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু সেই সংশয় কেটে গেছে।
গত শনিবার মার্কেটটির পূর্বপাশে তিনতলায় আগুন লাগে। ২৭ ঘণ্টা পর আগুন নেভায় ফায়ার সার্ভিস। মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির তথ্য অনুয়ায়ী, আগুনে তিনতলার গোল চত্বর থেকে পূর্বপাশের ২২৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ছাড়া আগুন ও অগ্নিনির্বাপণের সময় পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দোতলায় ২৬টি দোকান।
আগুনের কারণ অনুসন্ধানের জন্য গঠিত ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি গতকাল মার্কেট পরিদর্শন করেছে। তারা কথা বলেছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে।
ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মারুফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পোড়া দোকানগুলো ছাড়া বাকি দোকান সব খোলা হয়েছে। ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। বিদ্যুৎ সংযোগও পেয়েছি। এখন আমরা চেষ্টা করছি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কীভাবে সহায়তা করা যায়।’
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পোড়া দোকানগুলোর সংস্কারকাজ চলছে। তিনতলার ১৮৪ নম্বর দোকানের মালিক মো. আবুল খায়ের জানান, দোকানে রঙের কাজ চলছে। আগুনে তার দোকানের সাজসজ্জা, মালসহ সব পুড়ে গেছে। সোমবার থেকে দোকান সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। এখনো শেষ হয়নি। ঈদের আগে তার দোকান সংস্কারের কাজ শেষ হলেও অন্যদের এখনো সময় লাগবে। পূর্বপাশে বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়নি।
তিনলার পূর্বপাশের পোড়া দোকানগুলো ছাড়া মার্কেটের অন্যসব দোকান খোলা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। দোকানিদের ভাষ্য, এমন একটি দুর্ঘটনার পর দোকান ঈদের আগে খুলতে পেরেছেন, এটার জন্যই শুকরিয়া আদায় করছেন তারা। বেচাকেনাও জমতে শুরু করেছে। তবে অন্য যেকোনো ঈদুল ফিতরের তুলনায় কম।
মার্কেটের দোতলার ১৪৬ নম্বর দোকানের কর্মচারী ফরিদুল জানান, বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ভালোই বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, গণমাধ্যমসহ নানা সূত্র থেকে তারা জেনেছেন নিউ সুপার মার্কেটের দোকান খোলা হয়েছে। তাই তারা নিজেদের পছন্দের পোশাক কিনতে এসেছেন।
মাধ্যমিক স্কুলপড়ুয়া ছেলে মেহেদি হাসানকে নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে পোশাক কিনতে আসা নাসির হোসেন বলেন, ‘মার্কেটে আগুন লাগার খবর প্রথম দিনেই শুনেছি। পরে জানলাম মার্কেট খুলেছে। প্রতি ঈদে এখান থেকে পরিবারের সবার কেনাকাটা করি। কারণ এখানকার পোশাকের দাম বাজেটের মধ্যে থাকে। তাই এবারও কিনতে এসেছি।’
মোহাম্মদপুরের কাটাসুর থেকে দুই শিশুসন্তান নিয়ে এসেছেন শিরিনা আক্তার। মার্কেটের দোতলায় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, ১৩ বছর ঢাকায় বাস করছেন। এ সময়ে ঈদে তিনি নিউ মার্কেট ও নিউ সুপার মার্কেটে কেনাকাটা করেছেন। এবার আগুনের খবর শুনে ভেবেছিলেন এবার হয়তো অন্য মার্কেটে কেনাকাটার কাজ সারতে হবে। কিন্তু দোকান চালু হওয়ার খবর পেয়ে চলে এসেছেন দুই মেয়েকে নিয়ে।
দোতলার ২০৪/১ নম্বর দোকানের মালিক বাবুল হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার দোকান খুললেও বেচাকেনা তেমন হয়নি। তবে গতকাল বেলা ১১টার পর থেকে বেচাকেনা বাড়তে শুরু করেছে। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম।
দোতলার ১৪৪ নম্বর দোকানে পাঞ্জাবি বিক্রি করা হয়। দোকানটির ব্যবস্থাপক জানান, গত মঙ্গলবার অল্প বেচাকেনা হয়েছিল। তবে আজ (বুধবার) সকাল থেকে ক্রেতার ভিড় আছে তার দোকানে। তিনি বলেন, ‘যেভাবে আগুন লেগেছিল, ভেবেছিলাম ঈদের আগে আর ব্যবসা করা হবে না। দোকান যে খুলতে পেরেছি এটাই শুকরিয়া।’
দোতলার ৪৯ নম্বর দোকানের কর্মচারী শাহিন জানান, মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। বিকেল বা সন্ধ্যায় ভিড় বাড়বে বলে তার বিশ্বাস।
নিউ সুপার মার্কেটের পূর্বদিকে রাস্তার পাশে পণ্য সাজিয়ে বসা দোকানগুলোতেও ভিড় করছেন ক্রেতারা।
