গাজীপুরে জাহাঙ্গীর আজমতসহ ১২ মেয়র প্রার্থী

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:৫৮ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এ দিন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কারাবন্দি নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহনুর ইসলাম, মো. অলিউর রহমান, জাকের পার্টির রাজু আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল হোসেন মেয়র পদে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে বুধবার জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন, গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুল্লাহ আল মামুন মন্ডল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হারুন অর রশীদ তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ নিয়ে মেয়র পদে ১২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আজমত উল্লা খান দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এ নির্বাচন আমাদের অস্তিত্বের নির্বাচন, দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন গঠনের নির্বাচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ার নির্বাচন। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে স্মার্ট নগরী উপহার দিতে চাই।’

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘গাজীপুর নগরবাসী চায় একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সিটি করপোরেশন গঠিত হোক। আমি নির্বাচিত হলে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত জনকল্যাণমুখী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি করপোরেশনকে গড়ে তুলব।’

এক প্রশ্নের জবাবে আজমত উল্লাহ বলেন, এখানে যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। সিটি নির্বাচনের সব বিষয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখানে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে। এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

বিকেল ৩টার দিকে সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং জাহাঙ্গীর আলম তার মায়ের পক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘কালকের পর হয়তো আমার পায়ে শিকল পরতে হতে পারে। আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। আমাকে গুম করতে পারে। আমি দেশবাসী ও নগরবাসীকে বলে যাই, যদি আমার মৃত্যু হয় আপনারা বিশ্বাস করবেন আমি এ শহর রক্ষা করতে গিয়ে যা যা ভালো কাজ আছে আমি সব করেছি। হয়তোবা অনেকের পাওয়ারের কাছে মিথ্যাচার করতে পারে। অনেকে আমাকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে। আমার বিরুদ্ধে অনেক কিছু করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ শহরের মানুষের ক্ষতি হয় এমন কিছু আমি করিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার এখান থেকে কতিপয় মানুষ মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার ক্ষতি করেছে। সাধারণ মানুষের ক্ষতি করা হয়েছে। এখানে একটা মিথ্যার জয় হয়েছে। সত্য এখানে পতন হয়েছে। এ মিথ্যাকে যারা সত্য বানিয়েছে আমি তাদের বিচার চাই।’

দুই মেয়র ও এক কাউন্সিলর প্রার্থীকে শোকজ : এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুই মেয়র ও এক কাউন্সিলর প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা।

শোকজপ্রাপ্তরা হলেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এমএ নিয়াজ উদ্দিন, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন ম-ল ও নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সনজিৎ মল্লিক। বুধবার তাদের ওই কারণ দর্শানো নোটিস প্রদান করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত