ক্যানসারের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যানসার সবচেয়ে জটিল। এই ক্যানসার হলে রোগীকে প্রচন্ড কষ্ট করতে হয়। কিছু উপসর্গ ও লক্ষণ দেখে পাকস্থলীর রোগ শনাক্ত করা হয়। সে সম্পর্কে সবার ধারণা থাকা উচিত। তাহলেই ভালো থাকা যায়। পাকস্থলীর ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর বহু লোক এই ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে এবং অপারেশনের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত স্থান কেটে ফেলে দিলে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারেন।
লক্ষণ : রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে হজমক্রিয়ার গোলযোগ দেখা দেয়। খাদ্যগ্রহণের পর পেটে অস্বস্তি অনুভূতি হয়। সমস্যাগুলোকে রোগী তেমন গুরুত্ব দেন না। রোগী মনে করেন গ্যাস্ট্রিক হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম অনুভব করেন। ফলে ক্যানসার পাকস্থলী থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়।
উপসর্গ
পেট ফেঁপে ও ফুলে থাকে
বমি হয়
খাদ্যগ্রহণের পর খাদ্যনালিতে ব্যথা হয়
অল্প খেলে তৃপ্তি চলে আসে
রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়
শরীরের ওজন কমে যায়
বমির সঙ্গে রক্ত কিংবা কালো পায়খানা হতে পারে
এ সমস্যাগুলো হলে অপারেশন করালেও রোগীর আয়ুষ্কাল খুব বেশি বাড়ানো যায় না। সাধারণত চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে এ ক্যানসার বেশি হয়ে থাকে। নারীদের চেয়ে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হন।
কারণ
প্রচুর মাদক গ্রহণ
হেলিকোব্যাকটর পাইলোরি নামক এক প্রকার জীবাণুর আক্রমণ
অত্যধিক লবণ আছে এমন খাবার গ্রহণ করা
সংরক্ষিত টিনজাত খাবার
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাব রয়েছে এমন খাবার গ্রহণ করা
যারা ধূমপায়ী এবং ধুলাবালি স্থানে বাস করে তাদের মধ্যেও এ ক্যানসার হতে পারে
বংশগত কারণেও পাকস্থলীতে ক্যানসার হয়
কী করবেন : হজমক্রিয়ার গোলযোগ হচ্ছে তাদের এন্ডোস্কোপি করে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে অপারেশনের মাধ্যমে ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয়।
আমাদের দেশে রোগীরা যখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যানসার পাকস্থলীর বাইরে ছড়িয়ে পড়ে, এর ফলে চিকিৎসা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এ জন্য ওপরের সমস্যাগুলো দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিকার : পাকস্থলীর ক্যানসার প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত তাজা ও অর্গানিক শাকসবজি-ফল খেতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার কমাতে হবে। এ ছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করলে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটা কমবে। দীর্ঘদিন পেটের কোনো সমস্যা পুষে রাখা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
