জুনিয়র জাতীয় দল গঠনে স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ হায়দারের বিরুদ্ধে। ১৬ মে থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া আইটিএফ অনূর্ধ্ব-১২ আন্তর্জাতিক টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের দুই সন্তান, শ্যালিকা এবং বন্ধুর সন্তানকে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ফেডারেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সন্তানও সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে। ছয় সদস্যের জাতীয় দলে পাঁচজনের সুযোগ পাওয়াই প্রশ্নবিদ্ধ। স্বজনপ্রীতি করতে সাধারণ সম্পাদক নিয়মের ধার ধারেননি। ছেঁটে ফেলেছেন যোগ্যদের।
বালক দলে সুযোগ পেয়েছেন হায়দারের ছেলে মোহাম্মদ হায়দার। রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদকের বন্ধু মাহফুজুর রহমানের ছেলে রাকিন রহমান এবং সর্বশেষ বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত আসরে চ্যাম্পিয়ন কাব্য গায়েন আছে দলে। অথচ ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১২ জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতা আকাশ হোসেনকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। আকাশের বাবা সোহেল রানা টাকার বিনিময়ে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য আমার কাছে ৩৫ হাজার টাকা চেয়েছিল ফেডারেশন। কিন্তু তা দিতে পারিনি বলে আমার ছেলেকে আন্তর্জাতিক আসর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ গত জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা দশেও ছিল না রাকিন। শুধুমাত্র বন্ধুর ছেলে বলে তাকে সুযোগ দিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।’ আর হায়দারের মেয়ে হুমায়রা হায়দার জারা, তার শ্যালিকার মেয়ে মালিহা চৌধুরী ও ফেডারেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদের মেয়ে মাস্তুরা আফরিনকে নিয়ে হয়েছে বালিকা দল। অথচ গত আইটিএফ জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়া সারা আল জসিমকে বিবেচনায় আনেনি ফেডারেশন।
হায়দার অবশ্য অভিযোগকারী অভিভাবকদের বিরুদ্ধে উল্টো তোপ দেগেছেন, ‘নিজের ছেলে-মেয়ে জাতীয় দলে সুযোগ পেলে সাধারণ সম্পাদকের বাসায় মিষ্টি দিলাম। আর নিজের ছেলে-মেয়ে সুযোগ না পেলে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে পেপারে একটা নিউজ করিয়ে দিলাম! আমার কথা হচ্ছে, আমাকে মিষ্টিও দিয়েন না, গালিও দিয়েন না। আমাকে কাজ করতে দেন। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যে। পুঙ্খানুপুঙ্খ সিলেকশন হয়েছে। ১২ বছরের বাচ্চাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া আর অনূর্ধ্ব-১৮’র নির্বাচন প্রক্রিয়া ভিন্ন। এসব টেকনিক্যাল বিষয়, এগুলো আমরা বুঝি। অভিভাবকরা বুঝবেন না।’ সন্তানদের সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে হায়দার বলেন, ‘এরা সবাই সুযোগ পেয়েছে শতভাগ পারফর্ম করে। এরা কোর্টে ছয় ঘণ্টা সময় দেয়, স্কুলে যায় না। নাদাল-ফেদেরার ছয় ঘণ্টা স্কুল করে বড় তারকা হয়নি। আমরা অভিভাবকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে টেনিস খেলা শিখতে হলে স্কুলে যাওয়া চলবে না। ছয় ঘণ্টা মাঠে সময় দিতে হবে। এরা (যারা সুযোগ পেয়েছে) ছয় ঘণ্টা মাঠে সময় দিচ্ছে। আমার প্রয়োজন আন্তর্জাতিক রেজাল্ট।’ চ্যাম্পিয়ন হওয়া আকাশের বয়স বেশি দাবি করে হায়দার বলেন, ‘ওর তো পুরুষের গলার কণ্ঠ বের হয়ে গেছে। বয়স ওর ১৬। ডানা-গোথিয়া কাপকেও আমরা হার মানাত, যদি ওই ছেলেকে নিতাম। জন্মসনদ তো বানানোই যায় আমাদের এখানে। জন্মসনদ দেখে তো কাজ করলে হবে না। এই ছেলেকে অতীতে বহুবার বলা হয়েছে বোন টেস্ট করতে। সে কখনো আসেনি।’
নিজের সন্তানদের ট্রেনিংয়ের বেশি সুযোগ করে দিতে স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগ আছে সাধারণ সম্পাদকের সহধর্মিণীর বিরুদ্ধেও। অনেকে এটাকে জামাই-বউয়ের ফেডারেশন বলতে শুরু করে দিয়েছেন।
