গাজীপুরে বীর নিবাস নির্মাণ

মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে চাঁদা আদায়!

আপডেট : ০৬ মে ২০২৩, ০৬:১৭ এএম

অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের আবাসন প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দ বাড়ি নির্মাণে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে কয়েক দফায় চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট নানা মহলে ধরনা দিয়েও ওই মুক্তিযোদ্ধা ও বাড়িটি নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারের লোকজন চাঁদাবাজের হাত থেকে রেহাই পাননি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালউদ্দিন (সুরুজ মিয়া) কাপাসিয়ার রায়েদ ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ছেলেমেয়েদের নিয়ে নিজের ছোট্ট বাড়িতে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ায় অনেক দেনদরবার করে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের আবাসন প্রকল্প ‘বীর নিবাস’-এর অধীনে একটি বাড়ির বরাদ্দ পান। কিন্তু তার বাড়িটি রায়েদ বাজার থেকে দরদরিয়াগামী পাকা রাস্তা থেকে একটু ভেতরে হওয়ায় ঠিকাদারের লোকজন সরাসরি নির্মাণসামগ্রী নিয়ে তার বাড়ি আসতে পারছিলেন না। আর এর সুযোগ নিয়ে সড়কের পাশের বাড়ির মোশারফ হোসেন তার জমির ওপর দিয়ে নির্মাণ সামগ্রীবাহী সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে বাধা দেন। অনেক অনুনয়-বিনয়ের একপর্যায়ে মোশারফ হোসেন তার জমির ওপর দিয়ে মালামাল পরিবহন বাবদ মুক্তিযোদ্ধা কামালউদ্দিনের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। বিষয়টি তিনি রায়েদ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল হাকিম হিরণ মোল্লাকে অবহিত করেন। এর কয়েক দিন পর ২০ হাজার টাকা দিলে বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দেন হিরন মোল্লা। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন মালামাল নিতে গেলে মোশারফ বাধা দিয়ে তার মাধ্যমে মালামাল ক্রয় ও সরবরাহ করতে হবে বলে শর্ত দেন। এভাবে একের পর এক সংকট তৈরি করায় নিরূপায় হয়ে ঠিকাদারের লোকজন তার (মোশারফ) মাধ্যমে ইট-বালু কেনা ও সরবরাহ করতে রাজি হন। এই সুযোগে মোশারফ ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করেন। এ ছাড়া ছাদ ঢালাইয়ের সময় রড-সিমেন্ট পরিবহনে ফের বাধা দিয়ে আরও ১০ হাজার টাকা আদায় করেন। তা ছাড়া বিভিন্ন সময় মুক্তিযোদ্ধা কামালউদ্দিনের কাছ থেকে ধার নেওয়ার নামে এক হাজার/দুই হাজার টাকা করে আনুমানিক ৭-৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালউদ্দিনের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি কক্ষ, একটি ডায়েনিং স্পেস, ২টি টয়লেট, একটি কিচেন ও একটি বারান্দাবিশিষ্ট ব্রিক ফাউন্ডেশনের বাড়িটির নির্মাণকাজ প্রায় ৬ মাস আগে শুরু করা থেকে এখন পর্যন্ত নানা কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা করে চলেছি। টাকার জন্য মানুষ কতটা হিংস্র হতে পারে তা ওই মুক্তিযোদ্ধার প্রতিবেশী মোশারফ হোসেনের সঙ্গে কথা না বললে বোঝা যাবে না। সে দফায় দফায় মুক্তিযোদ্ধা কামালউদ্দিন ও তার লোকজনকে নানা সংকটে ফেলে প্রায় ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’

তবে মোশারফ হোসেনের দাবি, বীর নিবাস নির্মাণ করতে গিয়ে তার জমির বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি বাবদ রায়েদ ইউপি চেয়ারম্যান হিরণ মোল্লা ও সদস্য আফাজউদ্দিনের কাছ থেকে কিছু টাকা পেয়েছেন। তবে তিনি মোট কত টাকা নিয়েছেন তার পরিমাণ বলতে বাধ্য নন বলে জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আফাজউদ্দিন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কামালউদ্দিনের বাড়িতে যেহেতু যাওয়ার রাস্তা নেই, তাই তার কাছ থেকে কিছু টাকা আদায় করে মোশারফের উঠানের জমি ব্যবহার করায় ওই টাকা তাকে দিতে হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা বলে কামালউদ্দিনকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

আর রায়েদ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল হাকিম হিরণ মোল্লা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কামালউদ্দিনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আফাজউদ্দিন মেম্বারের মাধ্যমে মোশারফের উঠান দিয়ে মালামাল পরিবহনের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে মোশারফ আরও টাকা নিয়ে থাকতে পারে। যা আমার জানা নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত