অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ইউএনওর

আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ০২:০৬ এএম

ছাত্রলীগ নেতা সম্রাট হোসেন ও তার মামা যুবদল নেতা মিঠু মোল্লার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মতিউর রহমান। এ সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ তুলে ধরেন তিনি।

জানা গেছে, সম্প্রতি নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়নের তেলেঙ্গা গ্রামে মাটি কাটার বিষয়ে ওই গ্রামের সম্রাটহোসেন (ঢাকা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত) এবং তার মামা কৈলাইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিঠু মোল্লা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। পরে তারা নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি সরেজমিনে গিয়ে মাটি কাটার কোনো মেশিন বা প্রমাণ পাননি।

এরপর গত ১৮ এপ্রিল সম্রাট ও তার মামা উপজেলায় এলে তাদের কথা শোনেন এবং এলাকায় তাদের দুই মামা-ভাগ্নের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মাদক ব্যবসার বিষয়ে জানতে চান ইউএনও। এতে তারা ইউএনওর ওপর ক্ষিপ্ত হন। তাকে বদলির হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন ইউএনও। এ সময় ইউএনওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা স¤্রাটকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সম্রাট ও তার মামার সঙ্গে আনসার সদস্যদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এ ছাড়া ওই দুজনকে থানায় পাঠাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ঘটনার সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কৈলাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পরিস্থিতি সমাধানে কৈলাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বশির আহমেদ জিম্মা নিয়ে তাদেরকে নিয়ে যান। তারা উভয় পক্ষ মীমাংসার লক্ষ্যে উপজেলা ত্যাগ করে। পরে সম্রাটও তার মামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও তাদের মারধর করেছেন বলে প্রচার করেন। গত রবিবার শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সম্রাটও তার মামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান এসব অপপ্রচারের প্রতিকার চেয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তার কাজে বাধাসহ নান রকম ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এসব সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তিনি সম্রাটও তার মামা কৈলাইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির মাদক সেবনরত কিছু ছবি ও ভিডিও সাংবাদিকদের কাছে দেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি নবাবগঞ্জে কিছু প্রভাবশালী মহলের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন। স্বার্থ ক্ষুণœ হলে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে তারা আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সম্রাটও তার মামা ওই মহলের মদদে আমার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পাঁয়তারা করছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, ওই দিনের ঘটনার পর সম্রাটআমার ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার ক্ষমা চায় এবং বলে আগামী দিনে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবে না।

এসব বিষয়ে জানতে নবাবগঞ্জের বাসিন্দা শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি স¤্রাটকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত