সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, কুতুবদিয়া বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ১৩ মে ২০২৩, ১২:২৭ এএম

প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহা বিপৎসংকেত দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বলেন, মোখা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এ জন্য কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহা বিপৎসংকেত দেখানো হয়েছে। জেলার উপকূলীয় চার উপজেলাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। টেকনাফের সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার সদর, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে মোখা মোকাবিলায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় জরুরি সভা করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

জানা গেছে, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের দিকে রয়েছে প্রশাসনের বিশেষ দৃষ্টি। সেন্টমার্টিনে ঢাকা বাইরের লোকজন ফিরে আসছে। তবে স্থানীয় লোকজন এখনো সেখানে রয়ে গেছে। অনেকে আবার টেকনাফ চলে এসেছে। তা ছাড়া সাগর থেকে ফিরেছে সাড়ে তিন হাজার মাছ ধরার ট্রলার।

শুক্রবার কক্সবাজারে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি আসলেও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকার জনগণ।

কুতুবদিয়া উপজেলার ধুরং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী জানিয়েছেন, কুতুবদিয়ার সিংহভাগ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দ্বীপের মানুষ উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সমুদ্র সৈকতে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক পর্যটক রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা কক্সবাজারে আঘাত হানবে এমন খবর শুনলেও আমরা সৈকত এসে তার কোনো প্রভাব দেখছি না। তাই কক্সবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছি।

প্রশাসন জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সামছুদ্দৌজা নয়ন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষে রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবক ও রেডক্রিসেন্টসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলোকে। স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি মেডিকেল টিম ও মোবাইল মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে জরুরিভাবে সরবরাহের জন্য ত্রিপল, বাঁশ, সুতলি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের জরুরি সভা শেষে জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরান জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকালীন ২৫ লাখ নগদ টাকা রাখা হয়েছে। যার মধ্যে ১০ লাখ টাকা উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ দশমিক ৯০ মেট্রিক টন চাল, ৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন টোস্ট বিস্কুট, ৩ দশমিক ৪ মেট্রিক টন শুকনা কেক, ১৯৪ বান্ডিল ঢেউটিন, ২০ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন ও ৪০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রস্তুত রয়েছে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র, ১০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে। সেন্টমার্টিনের বাসিন্দার আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানকার সব আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু বলেন, জেলায় তাদের সাড়ে ৭ শ কর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার ট্রলার সাগর থেকে ফিরেছে। বাকি ট্রলারগুলো ফিরে আসছে।

সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, জাহাজ ও ট্রলার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে সেন্টমার্টিনের যেসব চাকরিজীবী ও বাইরের লোকজন রয়েছে, তারা সবাই চলে যাচ্ছে। তবে স্থানীয় লোকজন এখনো বাড়িতে রয়েছে। আমরা তাদের নিরাপদ আশ্রয় যাওয়ার কথা বলেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত