ফেসবুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি হয় শিশু সিদ্দিক

আপডেট : ২০ মে ২০২৩, ০২:০৩ এএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বাসার পাশে তিন বছরের শিশু সিদ্দিক আট বছর বয়সী বোন হুমায়রার সঙ্গে খেলছিল। তাদের সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতজন শিশু ছিল। এ সময় ওই শিশুদের কাছে গিয়ে এক ব্যক্তি শিশুদের চকলেট খাওয়ান। এরপর কৌশলে শিশু সিদ্দিককে কোলে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে ফেসবুকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে শিশুটিকে বিক্রি করে দেন গোপালগঞ্জের এক দম্পতির কাছে। গত ২৬ এপ্রিল দুপুরের এ অপহরণের ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার শিশুটিকে গোপালগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-২।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান।

তিনি বলেন, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরের এ অপহরণের ঘটনার পর পরিবার মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে শিশুটিকে বিক্রি করার মধ্যস্থতাকারী সুজন সুতার (৩২) নামে একজনকে আটক করে র‌্যাব। পরে শিশু সিদ্দিককে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার সুজনের নিকটাত্মীয় পল্লব কান্তি বিশ্বাস (৫২) ও তার স্ত্রী বেবী সরকারের (৪৬) বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রেপ্তারের পর ঢাকার সাভার থেকে মূল হোতা অপহরণকারী পীযূষ কান্তি পাল (২৯), সহযোগী ও স্ত্রী রিদ্ধিতা পাল (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকা থেকে আম কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশু সিদ্দিককে অপহরণ করে চক্রটি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ‘সনাতনী উদ্যোক্তা ফোরাম (এসইউএফ)’ নামে একটি গোপন গ্রুপে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পরে মাত্র ২ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের শিশুটিকে নিয়ে নেয় গোপালগঞ্জের এক দম্পতি।

র‍্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান আরও বলেন, পীযূষ কান্তি পাল শিশুটিকে অপহরণ করে। পরে তার স্ত্রী রিদ্ধিতা পাল সুজন সুতারের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের এক নিঃসন্তান দম্পতি পল্লব কান্তি বিশ্বাস ও বেবী সরকারের কাছে শিশুটিকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এর আগে ফেসবুক গ্রুপে পীযূষ দম্পতি সন্তান বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। সেখান থেকেই সুজন সুতার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাদের।

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, মূল হোতা পীযূষ কান্তি পাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন পার্ট টাইম স্পা সেন্টারে কাজ করত। সেখান থেকে রিদ্ধিতা পালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ২০২০ সালে বিয়ে করে। মূলত স্পা সেন্টারে কাজ করার সময় থেকে সে মানব পাচারে জড়িয়ে পড়ে। গত বছর বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা হয়। ওই মামলায় কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বের হয়। এ চক্রের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে, আরও কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত