বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ দিন ব্যায়াম করা উচিত। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, সকাল, দুপুর নাকি বিকেল—শরীরচর্চা করার আদর্শ সময় আসলে কোনটি?
একাধিক গবেষণা বলছে, দিনের যেকোনো সময়ের পরিবর্তে সকালে ব্যায়াম করলে বেশি কাজে দেয়। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং কিছু কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে সকালের ব্যায়াম।
সকালে শরীরচর্চার উপকারিতা
* সকালের স্নিগ্ধ বাতাস থেকে অক্সিজেন হৃিপণ্ডে পৌঁছে রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত মস্তিষ্কে সরবরাহ করে। ফলে মস্তিষ্ক সচল থাকে, ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করে, স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
* সকালে হাঁটলে রক্তের লোহিত কণিকা থেকে চর্বি ঝরে, হাঁটার সময় রক্তের ইনসুলিন ও গ্লুকোজ ক্ষয় হয়। ফলে ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
* সকালে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বাড়ে। এ সময় ব্যায়াম করলে পেশিগুলো শক্তিশালী হয়।
* সকালে ব্যায়াম করলে রাতে ভালো ঘুম হয়। যাঁদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা সকালে ব্যায়াম করতে পারেন।
* সকালে জগিং করলে বা দ্রুত হাঁটলে হার্টে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ হয়; এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
* সকালে হাঁটাহাঁটির ফলে যে ঘাম বের হয় তাতে ত্বকের লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং শরীরের দূষিত পদার্থগুলো ঘামের মাধ্যমে দ্রুত বের হয়। ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় দেখায়। তারুণ্য ধরে রাখতে সকালের ব্যায়াম বিশেষ উপযোগী।
* দৌড়, জগিং, ফ্রি হ্যান্ড বা জিমে গিয়ে যাই হোক না কেন—সকালে ৩০ মিনিটের ব্যায়াম পুরো দিনের ব্যায়ামের চাহিদা মেটায়। সারা দিনের কর্মক্ষমতা বজায় থাকে।
* সকালবেলা শরীর কার্বোহাইড্রেটের বদলে ফ্যাট বা চর্বিকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে। কেননা বেশির ভাগ কার্বোহাইড্রেট বা গ্লুকোজ রাতের বেলায় শরীরকে শক্তি জোগাতেই ব্যবহার হয়ে যায়। তাই মেদ বা ফ্যাট কমাতে চাইলে সকালের দিকে ব্যায়াম করা ভালো। যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাঁদের উচিত প্রতিদিন সকালে শরীরচর্চা করা।
মায়োক্লিনিক অবলম্বনে