বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত কিছুদিন ধরে সরকারের মন্ত্রী-নেতারা বারবার একটা কথা বলছেন, অগ্নিসন্ত্রাস হবে, আবার আগুন নিয়ে বিএনপি খেলবে। এটা কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি বক্তব্য। তারা করবে, সেজন্যই কথাগুলো বলতে শুরু করেছে। পত্রিকায় দেখছি, বিভিন্ন দূতাবাস থেকে অ্যালার্ট করা হচ্ছে। কনফোনট্রেশন (রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব) সৃষ্টি করছে। কনফোনট্রেশনের ভয় দেখাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। খুলনা, রাজবাড়ী, নেত্রকোনা, পটুয়াখালীতে যা করেছে, সেই কথা আমি বলছি। তারা প্রতিবাদকে বন্ধ করতেই এই একমাত্র পথ বেছে নিয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে বনানীর গোল্ডেন টিউলিপ হোটেলের সভাকক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (অ্যাব) উদ্যোগে ‘দেশের জ¦ালানি খাতে অমানিশা : লুটপাট আর অরাজকতার চালচিত্র’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনটির মহাসচিব প্রকৌশলী হাছিন আহমেদ।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও সংগঠনকে আহ্বান জানিয়েছি, একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির জন্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মত মিলে আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করছে। লক্ষ্য হচ্ছে, এ সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা। সব পেশাজীবীকে ভেদাভেদ ভুলে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার আরও পাঁচ বছর লুট করতে চায়। তারা বলছে, নির্বাচন তো হবে। হাত-পা বাঁধা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, মুখ বন্ধ। আর বলে, নির্বাচনে আসেন। ইতিমধ্যে খেলা শুরু করে দিয়েছে। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে, অত্যাচার-নির্যাতন, উৎপীড়ন, মামলা-মোকাদ্দমা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পরিষ্কার কথা ন্যাড়া বারবার বেলতলা যায় না। কোনো পাতানো নির্বাচন, দিনের ভোট রাতে করার নির্বাচন, প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের ভাষায় কুত্তা মার্কা নির্বাচনের ফাঁদে মানুষ পা দেবে না। স্পষ্ট কথা, তত্ত্বাধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের স্বমূর্তি ধারণ করে বলছেন, প্রতিরোধ করা হবে। গত কয়েক বছর ধরে তো পুলিশ দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। অত্যাচার, নির্যাতন, আইন তৈরি করেছেন। সর্বশেষ ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট দিয়ে সাংবাদিকদের মুখও বন্ধ করেছেন। ফ্যাসিবাদের প্রধান হাতিয়ার-ভয়ের রাজত্ব-সংস্কৃতি তৈরি করেছেন।
বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশ বিমান এমনিতে চলতে পারে না, এখন নতুন এয়ারক্রাফট কিনবে। আমি বিমান মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছি। আমি জানি, এয়ারবাস কেন কিনতে চায়। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, বোয়িং ফিটব্যাক দেয় না, কমিশন দেয় না। এয়ারবাস কমিশন দেয়। তাদের (সরকার) লক্ষ্যই কীভাবে চুরি, দুর্নীতি করবে।
অ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজুর সভাপতিত্বে ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব কেএস আসাদুজ্জামান চুন্নুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মজনুকে আটকের কথা স্বীকার করছে না : এদিকে গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রবিবার রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুকে নিজ বাসভবন থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু তাকে আটকের কথা এখনো পর্যন্ত স্বীকার বা তার কোনো হদিস দিচ্ছে না পুলিশ। এ ঘটনায় মজনুর পরিবার ও বিএনপি নেতাকর্মীরা শঙ্কিত। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মজনুকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর বিএনপির ৩ দিনের কর্মসূচি : গতকাল মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সংগঠনের সিনিয়র নেতারা এক বৈঠকে রফিকুল আলম মজনুকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২২ ও ২৪ মে থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল এবং ২৭ মে শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সমাবেশ।
