৬৪ লাখের মৎস্যকেন্দ্র এখন নির্মাণসামগ্রীর গুদাম

আপডেট : ২৭ মে ২০২৩, ১২:৩৪ এএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মৎস্য আহরণোত্তর পরিচর্যা কেন্দ্র নির্মাণের ৩ বছরেও তা চালু হয়নি। প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি তাই মৎস্য ব্যবসায়ীদের কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয়রা জানান এটি বর্তমানে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর নির্মাণসামগ্রীর গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেন্দ্রটি উপযুক্ত স্থানে নির্মাণ করা হয়নি, সেখানে পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। এ কারণে তারা সেখানে যেতে নারাজ।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে দাউদকান্দির দোনারচর এলাকায় ৮ শতাংশ জমিতে মৎস্য অধিদপ্তর ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মৎস্য আহরণোত্তর পরিচর্যা কেন্দ্রটি নির্মাণ করে। পরের বছর এটি উদ্বোধন করা হয়। চারদিকে সীমানা প্রাচীরসহ কেন্দ্রের ভেতরে অকশন শেড, প্যাকিং শেড, আটটি আড়ত ঘর, গভীর নলকূপ, আইস ক্রাসারসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর দক্ষিণ পাশে ফেরিঘাট এলাকায় পুরাতন নৈশকালীন মৎস্য বাজারে আড়ত রয়েছে প্রায় ৪০টি। প্রতিটি আড়তের মাছ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে বলে আড়তদাররা জানান। এখানকার অন্যতম আড়তদার

আল্লাহর দান মৎস্য আড়তের মালিক কাউসার আলম এবং ওমর আলী মৎস্য আড়তের মালিক ওমর আলী বলেন, প্রায় ৫০ বছর যাবৎ আমাদের বাবার আমল থেকেই এখানে আড়তদারি ব্যবসা। আমরা এখানেই ভালো আছি। তারা বলেন, দোনারচরের মৎস্যকেন্দ্রে মাছ রাখা বা প্রক্রিয়াজাত করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই।

উপজেলা মৎস্য আড়ত সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম মিয়া জানান, ৫০ বছর আগের পুরাতন মৎস্য আড়তে সবাই ব্যবসা করছি। তবে ২-৩ বছর আগে সরকার মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য যে ভবনটি তৈরি করেছে, সেখানে আমাদের সব ব্যবসায়ীর জায়গা হবে না। আরেকটি সমস্যা হলো, আমাদের আড়তে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই রাতে আসেন। তাদের সঙ্গে টাকা থাকে বিধায় তারা মহাসড়কের পাশে ছাড়া অন্য কোনো আড়তে মাছ কেনাবেচা করতে যান না। কেন্দ্রটি নির্মাণের সময় আমাদের সমিতির আগের নেতারা মহাসড়কের পাশে যে জায়গাটি দেখিয়েছিল সেখানে নির্মাণ করা হলে হয়তো এখন সেটি আমরা ব্যবহার করতে পারতাম।

মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় পরিচালক আবদুস সাত্তার বলেন, কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত মৎস্য আহরণোত্তর পরিচর্যা কেন্দ্রে ব্যবসায়ীদের নেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে তারা সেখানে যাচ্ছেন না। আর এটি নির্মাণ ও স্থান নির্বাচনে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ কাজ করেছে। যেহেতু কোনো ব্যবসায়ী এখানে আসেনি, তাই কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ রয়েছে। তবে ভেতরে কারা নির্মাণসামগ্রী রেখেছে জানি না। বিষয়টি খবর নেব।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিনুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী এই কেন্দ্রে ব্যবসা শুরু করেননি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা কীভাবে এসে এখানে ব্যবসা করবে সে বিষয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত