৪০ দিন বেঁচে থাকা সেই শিশুদের মৃত্যুর আগে যা বলেছিলেন মা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, ১০:৩২ পিএম

কলম্বিয়ায় আমাজন জঙ্গলের গভীরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ৪০ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয় চার শিশুকে। ওই শিশুদের মা উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরের চার দিনও বেঁচেছিলেন। তবে মৃত্যুর আগে তিনি তার সন্তাদেরকে সাহায্যের সন্ধানে জঙ্গলে ছাড়িয়ে পড়তে এবং তাকে ছেড়ে যেতে বলেছিলেন।

ওই চার শিশুর বাবা ম্যানুয়েল রনোক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (১২ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ মে কলম্বিয়ার আমাজনের জঙ্গল ক্যাকুয়েতার গভীরে সেসনা ২০৬ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলটসহ তিন ব্যক্তি নিহত হন। এদের মধ্যে শিশুদের মা মাগদালেনা মিউকুটিউ রয়েছেন। হুইতোতো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেত্রী ছিলেন তিনি। এদিকে উড়োজাহাজটিতে থাকা চার শিশুরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তবে ক্যাকুয়েতার জঙ্গলে ৪০ দিন কাটানোর শুক্রবার (৯ জুন) তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করে কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনী। এ উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেওয়া শিশুদের বাবা ম্যানুয়েল রনোক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লেসলি নামের তার বড় মেয়ে তাকে জানিয়েছেন যে , তার স্ত্রী মাগদালেনা মৃত্যুর আগে তার সন্তানদের বাঁচানোর জন্য তার বড় মেয়ে লেসলিকে জঙ্গলে ‘বেরিয়ে পড়ার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কলম্বিয়ার প্রতিকূল ওই জঙ্গলে কীভাবে তার চার শিশু বেঁচেছিল এ প্রসঙ্গে বাবা রনোক বলেনে’একটি বিষয় আমার কাছে পরিষ্কার (১৩ বছর বয়সী লেসলি) যে,তার মা চার দিন বেঁচেছিলেন।

তিনি মারা যাওয়ার আগে লেসলিকে বলেছিলেন যে, ‘বাচ্চারা, তোমাদেরকে এখান (আমাজন জঙ্গল) থেকে পালাতে হবে। তোমাদের বাবা খুবই স্নেহশীল মানুষ। আমি তোমাদের যেভাবে ভালোবেসেছি, সেও ততটাই ভালোবাসা দিয়ে তোমাদের বড় করবে।’

এদিকে নিকোলাস ওরদোনেজ গোমেজ নামের এক উদ্ধারকর্মী সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শিশু চারটিকে খুঁজে পাওয়ার পর সবচেয়ে বড় মেয়েশিশু লেসলি আমার দিকে দৌড়ে আসে, তখন তার কোলে ছিল সবচেয়ে ছোট শিশুটি। লেসলি বলে, “আমি ক্ষুধার্ত”।’

গোমেজ আরও বলেন, ‘বাকি দুই ছেলেশিশুর মধ্যে একটি শুয়ে ছিল। সে উঠে দাঁড়ায় এবং আমাকে বলে, “আমার মা মারা গেছেন”।’ সাক্ষাৎকারটি রোববার কলম্বিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিসিতে সম্প্রচারিত হয়েছে।

শিশুদের উদ্ধারের পর কর্তৃপক্ষ জানায়, টানা ৪০ দিন গভীর জঙ্গলে থাকার পরও এই চার শিশু তাদের নানির কল্যাণে দুর্ভেদ্য ওেই জঙ্গলে এত দিন বেঁচে ছিল । তিনিই খুব ছোটবেলা থেকে লেসলিকে গভীর জঙ্গলে মাছ ধরা ও শিকারের কলাকৌশল শিখিয়েছেন। এমনকি প্রকৃতি থেকে খাবার সংগ্রহের উপায়ও শেখানো হয়েছিল এই শিশুদের।

শুক্রবার শিশু চারটিকে উদ্ধার করার পর উড়োজাহাজে করে বোগোতার সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট শিশুর বয়স ১১ মাস। বড় মেয়ের বয়স ১৩ এবং অপর দুই শিশুর বয়স যথাক্রমে ৯ ও ৫ বছর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত