বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ যুক্তিযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি।
গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের (বিআরএসপি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিতে ভূমিকা রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে চিঠি দিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য। গত সোমবার তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোরেলের কাছে চিঠি দেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিদেশি চাপ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে ওবায়দুল কাদের গতকাল ওই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ‘বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যতটা না তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তাকে নিয়ে রাজনীতির চর্চা করেছে বেশি।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না, করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সেখানে ৬ জানুয়ারি (২০২০ সাল) গণতন্ত্রের নামে কী হলো? ৬টি প্রাণ গেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেননি। তিনি বলেন, ‘সবাই মুখে যে গণতন্ত্রের কথা বলছে, বাস্তবে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিছু না কিছু ত্রুটি আছে। আমাদের গণতন্ত্রও সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত বলছি না। ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা করছি। নির্বাচন কমিশনকে আইন করে স্বাধীন করা হয়েছে।’
বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনি কতটা জনপ্রিয় প্রমাণ করতে হলে নির্বাচনে আসতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বেগম জিয়াকে জেলে রেখেছে, তত্ত্বাবধায়ক বাদ দিয়েছে, বিএনপির দুটি অভিযোগই মিথ্যা।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল নিজে ব্যর্থ। সবার আগে বিএনপি নেতৃত্বের টপ টু বটম পদত্যাগ করা দরকার। দৃশ্যমান কোনো আন্দোলন তারা করতে পারেনি। বিএনপির ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই, দেশে গণতন্ত্র আনবে কীভাবে।’
জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি উচ্চ আদালতে আছে। চূড়ান্ত রায় আসেনি। সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি আছে। দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।’
জাতিসংঘে মানবাধিকার কমিশনের চিঠি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কি জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের কথা ও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলি?’
এর আগে রোড সেফটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এত উন্নয়নের পরও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে পারছি না, এটা আজকে প্রশ্ন। সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক ক্ষতি হয়। আমাদের ভাবনা অনেক সুদূরপ্রসারী। কিন্তু বাস্তবায়ন খুবই ধীর।’
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্যানেল আলোচনা করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি অপরাধ ও অপারেশন আতিকুল ইসলাম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের রোড সেফটি প্রজেক্টের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট দীপন বোস।
বিশ^ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
