সাংবাদিক নাদিমকে হত্যা নিয়ে যা বললেন প্রত্যক্ষদর্শী

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৩, ১১:৪৭ পিএম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সাংবাদিক গোলাম রব্বানি নাদিম হত্যার ঘটনার একটি বর্ণনা দিয়েছেন তার সহকর্মী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আল মুজাহিদ।

ঘটনার দিন গত বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে তিনি গোলাম রব্বানির সঙ্গে উপজেলার পাটহাটি মোড় দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। দুজনকে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে যেতে সিসিটিভির ফুটেজেও দেখা গেছে।

একটি বাইকে থাকা সাংবাদিক রব্বানিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে পেটাতে পেটাতে সিসিটিভির আওতার বাইরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এরপরের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দিয়েছেন আল মুজাহিদ।

আল মুজাহিদ বলেন, সন্ত্রাসীরা প্রথমে ব্যস্ততম এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে সাংবাদিক গোলাম রব্বানিকে নামায়। তাকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি দিতে দিতে অন্ধকার টিঅ্যান্ডটি সড়কে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল আরও ১৫–২০ জন সন্ত্রাসী। সবাই মিলে যে যেভাবে পারছিল, রব্বানিকে পেটাচ্ছিল। আর দূর থেকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন মূল অভিযুক্ত সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা মাহমুদুল আলম ওরফে বাবু।

একপর্যায়ে কেউ একজন লাথি মেরে পাশে থাকা একটি দেয়ালের ইট ভাঙে। চেয়ারম্যানের ছেলে সেই ইট হাতে নিয়ে রব্বানিকে আঘাত করেন। সাংবাদিক গোলাম রব্বানি বারবার বাঁচার জন্য কাকুতি-মিনতি করছিলেন। তবু তাকে নির্মমভাবে মারছিল তারা। একপর্যায়ে মৃত ভেবে তাকে ফেলে সবাই চলে যায়।

আল মুজাহিদ আরও বলেন, আমি গোলাম রব্বানিকে মামা ডাকতাম। তাকে যখন এভাবে মারা হচ্ছিল, আমি এগিয়ে যাই। তারা আমাকেও হত্যার হুমকি দেয়। আমি প্রাণভয়ে কিছুই করতে পারিনি। তখন আমি আমাদের লোকজনকে ফোন করে আসতে বলি।

স্থানীয়রা ও প্রতক্ষ্যদর্শী জানান, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক গোলাম রব্বানির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম ওরফে বাবু। বিভিন্ন সময় তিনি গোলাম রব্বানিকে হুমকি দিয়েছেন।

এ সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড এ দেশে খুবই ন্যক্কারজনক একটি ঘটনা। সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ হত্যাকাণ্ডে নেপথ্য মদতদাতা ও সক্রিয় অংশ নেয়া সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান নেতারা।

প্রত্যক্ষদর্শীর এই সাংবাদিকের বক্তব্যের বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, মুজাহিদ আমাদের এই ধরনের কোনো ভাষ্য দেননি। আমাদের কাছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ আছে এবং ঘটনার সময় আশপাশে আরও লোকজন ছিলেন। ফলে তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তারা সবাই শনাক্ত হবেনই। আমরা ইতোমধ্যে ছয়জনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ফলে এই ঘটনার পেছনের এবং সামনের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ জুন) রাতে জামালপুরের বকশীগঞ্জ বাজারের পাথাটিয়া এলাকায় সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের ওপর হামলা হয়। সন্ত্রাসী হামলায় আহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত