সাভারে চোর, ছিনতাইকারী এবং মাদক সিন্ডিকেটের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় বাকিতে বিক্রি করা মাদকদ্রব্য হেরোইনের মূল্যবাবদ পরিশোধ করা বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাভার মডেল থানা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অফস ও ট্রাফিক উত্তর) আব্দুল্লাহিল কাফী পিপিএম।
পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি চুরির মামলা তদন্ত করতে গিয়ে চোর ও মাদক চক্রের সন্ধান পায় সাভার মডেল থানা পুলিশ। চোরচক্রটি বাকিতে মাদক গ্রহণের পর বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে চুরি করা মালামাল দিয়ে এর মূল্য পরিশোধ করত। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে সাভার ও আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের চার সদস্য এবং মাদক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেইসঙ্গে চুরি হওয়া ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করে সাভার মডেল থানার এসআই মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ও এসআই রাসেল মিয়ার নেতৃত্ব দেন পুলিশের একটি দল।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, ‘আমরা একটি ব্যতিক্রমী চোরচক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। যারা চুরি করা স্বর্ণালংকারের বিনিময়ে মাদক ক্রয় করে সেবন করত। তারা বাকিতে মাদক সেবন করত। পরে চুরি করা স্বর্ণালংকার দিয়ে মাদকের দাম পরিশোধ করত। আমরা একটি চুরির মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পাই। এই চক্রের আট সদস্যকে আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাভার ও আশুলিয়ায় এই প্রথম এমন ঘটনার সাক্ষী হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাদক সেবনের বিনিময়ে চুরি করার মতো ঘটনা আমাদের সবাইকে অবাক করেছে। গ্রেপ্তারকৃত অধিকাংশের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাকিতে মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা হলেন, ঢাকা জেলার ধামরাই থানার রূপনগর গ্রামের মৃত তুরাব আলীর ছেলে মো. স্বপন (৪৮) ও তার স্ত্রী আঞ্জু বেগম (৩৫), ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার বাইপাইল প্রেস ক্লাবসংলগ্ন এলাকার মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে মো. রাজা মিয়া (৪০), একই এলাকার রাজা মিয়ার বন্ধু আব্দুল গফুর মন্ডলের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৫)।
গ্রেপ্তারকৃত চোরচক্রের সক্রিয় সদস্যরা হলো পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার মাদবরবাড়ি নুরাইনপুর এলাকার সবুজ মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (৩০), কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার তারাগুনিয়া গ্রামের মো. রিপন ওরফে চান্দি রিপন (৪০), নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার চ-ীতলা গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে মো. হাসেম ড্রাইভার (৩৫), ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার রামভদ্রপুর গ্রামের আলী আজগরের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (৩০)। তাদের সবাইকে বাকিতে মাদকদ্রব্য হেরোইন সেবন করিয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে চুরি করিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে আসছিল মো. স্বপন ও রাজা মিয়ার একটি সিন্ডিকেট।
গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারীরা হলো পাবনা জেলার মিটন পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে মো. সোহাগ (৩০), ঢাকা জেলার সাভার থানার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁ এলাকার মৃত এনায়েত হোসেনের ছেলে রাফসান জনি রাফি (২৩), একই এলাকার মৃত সৈয়দ আনোয়ারুল হাসানের ছেলে সৈয়দ রবি হাসান (২২)।
