নিজে যুক্তরাষ্ট্রের হয়েও ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে নিজ দেশের মিথ্যাচার ফাঁস করে দিয়েছিলেন ডেনিয়েল এলসবার্গ। বিবিসি বলছে, এই সমরবিদ ১৯৭১ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধসংক্রান্ত ৭ হাজার পৃষ্ঠার গোপন নথি ফাঁস করেন ড্যানিয়েল এলসবার্গ, যা পরে পরিচিতি পায় পেন্টাগন পেপার্স নামে। বিবিসি বলছে, এলসবার্গ পেন্টাগনের এমন কিছু নথি ফাঁস করে দিয়েছিলেন, তা তাকে ‘আমেরিকার সবচেয়ে বিপজ্জনক মানুষ’ হিসেবে পরিচিত করেছিল। এলসবার্গ ছিলেন ‘হুইসেলব্লোয়ারদের (অভ্যন্তরে থেকে তথ্য ফাঁসকারী) দাদা’, বিবিসিকে বলেছেন গার্ডিয়ানের সাবেক প্রধান সম্পাদক অ্যালান রুসব্রিজার।
‘পেন্টাগন পেপার্স’ ফাঁসের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বিশ্বাস ছিল, ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহায়তাপুষ্ট তথাকথিত গণতন্ত্রপন্থিরাই জয়ী হবে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদ, সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য প্রচার-প্রচারণাযন্ত্রও সেই বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখতে সদা তৎপর ছিল।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের এই ধারণায় বড় ধরনের ধাক্কা দেন ড্যানিয়েল এলসবার্গ, ১৯৬৯ সালে পেন্টাগন পেপার্স ফাঁসের মাধ্যমে। তার এই কাণ্ডের পরই জানা যায়, ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে দেশের জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করছিল যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। এবং তারপর থেকেই ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ঘরে ফেরানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রে উঠতে থাকে জোরেশোরে। পেন্টাগন পেপার্স নিক্সনকেও মিথ্যাচারের জন্য পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। এজন্য অবশ্য এলসবার্গকে মূল্যও দিতে হয়েছিল।
এই ফাঁসের ঘটনায় এলসবার্গের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনেছিল রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ওই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে এলসবার্গের পক্ষেই রায় দিয়েছিল। এরপর থামেননি তিনি। দশকের পর দশক এলসবার্গ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারগুলোর নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও সামরিক হস্তক্ষেপের তুমুল সমালোচনা করে এসেছেন।
সেই হুইসেলব্লোয়ার এলসবার্গ (৯২) গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার কেনসিংটনে নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৩১ সালে মিশিগানে জন্ম নেওয়া ড্যানিয়েল এলসবার্গ প্রথম জীবনে মেরিন বাহিনীর একজন সেনাসদস্য ছিলেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পেশাগতভাবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক হলেও বাইরের দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা পাঠানোর ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে সারা জীবন যুক্ত ছিলেন পরমাণু অস্ত্র ও যুদ্ধবিরোধী প্রচারাভিযানে।
