বাজবলের বিপরীতে দাঁড়িয়ে জীবনের সেরা ম্যাচ খেললেন খাজা

আপডেট : ২২ জুন ২০২৩, ১২:১৫ এএম

এজবাস্টন অ্যাশেজের নাটকীয় টেস্টের বিশ্লেষণ হচ্ছে নানামুখী। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস প্রথম দিনে ইনিংস ঘোষণা করে যে ভুল করেছিলেন, হার দিয়েই কি তার প্রায়শ্চিত্ত করল দল? নাকি ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন ধ্রুপদী ঘরানার ব্যাটিং করা উসমান খাজা? ম্যাচশেষে স্টোকস অবশ্য বলেছেনÑ এভাবেই খেলে যাবে ইংল্যান্ড। আর খাজা বলেছেন, এটাই তার জীবনের সেরা ম্যাচ।

‘দলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আর জয় হিসাব করলে, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা ম্যাচ হিসেবে অন্য ম্যাচগুলোর চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকবে’, অ্যাশেজ ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৭৯৬ মিনিট ক্রিজে থাকা উসমান খাজা বলেছেন। প্রথম ইনিংসে ৪৭৮ মিনিটে ৩২১ বলে ১৪ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৮ মিনিটে ১৯৭ বলে ৬৪ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া খাজা জানিয়েছেন, ‘আমি বড় হয়েছি অ্যাশেজের হাইলাইটস দেখে দেখে। দেখেছি (ইয়ান) বোথামকে উইকেট নিতে আর রান করতে, দেখেছি (অ্যান্ড্রু) ফ্লিনটফ ২০০৫ সালে কী করেছে; এসব আমার মাথায় গেঁথে আছে। এসব যখনই দেখতাম, তখনই আমার জিততে না পারার জন্য রাগ হতো।’ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভালো করতে পারেননি, অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে ভালো করে খাজা আরও একবার প্রমাণ করলেন নিজেকে। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজের পর দল থেকে বাদ পড়েছিলেন, ফিরেছেন ২০২২ সালের অ্যাশেজে জোড়া সেঞ্চুরি দিয়ে।

ইংল্যান্ড যেখানে ‘বাজবল’ তত্ত্বে টেস্টে খেলে আগ্রাসী ক্রিকেট, সেখানে খাজা যেন ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। পাকিস্তানে জন্ম নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অল্প বয়সেই পরিবারের সঙ্গে অভিবাসী হয়ে সেখানেই বেড়ে ওঠা খাজা বললেন, তার ধৈর্যশক্তির শিক্ষাটা পেয়েছেন পরিবার থেকে, ‘আমি মুসলিম আর বেড়ে উঠেছি ইসলামিক পারিবারিক পরিবেশে যেখানে ধৈর্য একটা বড় শিক্ষা। ধৈর্যের একটা বড় অংশ হচ্ছে মনঃসংযোগ, এটা যে কোনো কিছুর জন্যই বড় ভূমিকা পালন করে। জীবনে উত্থান-পতন থাকবেই।’

ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস অবশ্য হারের পর খেলার রীতি পাল্টাবেন না বলেই জানিয়েছেন, ‘হেরেছি তাই সবারই মন খারাপ তবে তারপরও আমাদের মনে একটা শান্তি আছে। বিশেষ করে রবিনসন আর ব্রড। আমরা যে খেলাটা খেলছি, সেটা যদি মানুষকে আকর্ষণই না করে তাহলে খেলে কী হবে।’ আগেভাগে ইনিংস ঘোষণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুতপ্ত নন স্টোকস, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমার তখন মনে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে বাগে পাওয়ার সেটা ছিল একটা সুযোগ। আমার মনে হয়েছে, কোনো ব্যাটসম্যানই চাইবে না দিনের খেলা শেষের ২০ মিনিট আগে মাঠে নামতে। আমি তো বলতেই পারি, শেষ দিনে যে রোমাঞ্চটা হলো আমি যদি ইনিংস ঘোষণা না করতাম তাহলে কি এমনটা হতো? এই খেলায় আমি যদি কিন্তু নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।’ হারের পর খারাপ লাগছে স্বীকার করছেন স্টোকস, বলেছেন, ‘হারলে খারাপ লাগে। যে কোনো খেলাতেই যে কেউই জয়ী হতে চাইবে।’

ইংল্যান্ডের পত্রপত্রিকাগুলোর অনেকেই বাজবল তত্ত্বের সমালোচনাই করছে। ‘বাজবল ০-১ অজবল’, ‘লাথি খেল বাজবল’ এমন অনেক শিরোনামই করেছে মিরর, স্টার স্পোর্ট-এর মতো পত্রিকাগুলো। আবার সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন তার কলামে বাজবলের পক্ষেই কথা বলেছেন, ‘নাসের বলেছেন, ‘ভিন্ন ধারার টেস্ট ক্রিকেটের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেওয়া ও খেলাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় ওরা যা করেছে, তার জন্য আমি সমালোচনার পথে হাঁটতে রাজি নই। কিছু একটা প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পরই ছুড়ে ফেলা যায় না।’

একটা ব্যাপার ঠিক সবাই মেনে নিয়েছে  মেনে নিয়েছে সবাই, এমন উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের টেস্ট হয়নি বহুদিন! লন্ডন টেলিগ্রাফের সাংবাদিক যেমন লিখেছেন, ‘একটা বিষয় পরিষ্কার, একই ম্যাচে দুটি দলের ভিন্ন ধারার খেলার কারণে এই সিরিজটা অসাধারণ একটা লড়াইয়ে পরিণত হতে যাচ্ছে। আর আপনি যদি ইংল্যান্ডের পক্ষে বাজি ধরেন, তাহলে তাদের গৌরবজনক ব্যর্থতার বিষয়টিও মেনে নিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত