৪ প্রকল্পে ৭৫২২ কোটি টাকা দেবে এডিবি ও ফ্রান্স

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৩, ১২:৫৭ এএম

যোগাযোগ, পরিবেশ ও নগর উন্নয়নের মোট চার প্রকল্পে ৭০ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঋণ দেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও ফ্রান্সের এজেন্সি ডে ডেভেলপমেন্ট (এএফডি)। গতকাল রবিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এ উন্নয়ন সংস্থা দুটির আলাদা ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ইআরডি।

এডিবির ৪০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সচিব শরিফা খান। এডিবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের আবাসিক মিশনের অফিসার ইনচার্জ জিয়াংবো নিং। এডিবির ওসিআর ঋণ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ। ঋণের সুদহারের সঙ্গে ইউরিবোর বা ইউরো ইন্টারব্যাংক অফারড রেটের সঙ্গে দশমিক ৫ শতাংশ যোগ হবে ও ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। বর্তমানে ইউরিবোরের এক বছর মেয়াদি সুদহার হচ্ছে ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর ফলে এডিবির ঋণের বার্ষিক সুদহার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া অবিতরণকৃত ঋণের ওপর শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট চার্জ দিতে হবে।

সরকারের ফ্রাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ‘সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন চিটাগং-কক্সবাজার রেলওয়ে’ প্রকল্প। ১০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইনটিতে নতুন করে সিংগেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। এতে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার ১০৭ টাকা হারে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

পর্যটন শহর কক্সবাজারের সঙ্গে রেলওয়ে স্থাপন করে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২০১০ সালের জুলাইতে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে।

এডিবি ১৯৭৩ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে ২ হাজার ৮৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ঋণ সহায়তা দিয়েছে। অনুদান সহায়তা দিয়েছে ৫৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে সাধারণত বিদ্যুৎ, জ¦ালানি, পরিবহন, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, কৃষি, পানি সম্পদ ও সুশাসনকে প্রাধান্য দেয় এ সংস্থাটি।

৩০ কোটি ৩০ ডলার দেবে এএফডি

গাজীপুর-টঙ্গী-উত্তরা-বিমানবন্দর করিডরে ২০ কিলোমিটার বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) রুটে চলাচলের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হবে ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস। এই চলমান প্রকল্পসহ তিন প্রকল্পে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে ফ্রান্স। ইতিমধেই বাংলাদেশ সরকার ও ফ্রান্সের মধ্যে ঋণচুক্তি সই হয়েছে।

‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট’ শীর্ষক এ প্রকল্পের অতিরিক্ত ৬ কোটি ২০ লাখ ইউরো; ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন স্যুয়ারেজ প্রজেক্ট ফর নর্থ ক্যাচমেন্ট’ প্রকল্পে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো এবং বাংলাদেশ ইনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন প্রকল্পে মিলিয়ন ইউরো অর্থাৎ মোট ২৭ কোটি ৭০ লাখ ইউরো সমপরিমাণ ৩০ কোটি ৩০ লাখ (তিনশ তিন মিলিয়ন) ডলার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্রান্সের এ ঋণটি নমনীয় সুদে নেওয়া হয়েছে। এ ঋণের সুদের হার ১ শতাংশ। ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ এ ঋণ পরিশোধ করা যাবে ২০ বছরে।

আরামদায়ক, ব্যয় সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, আধুনিক, টেকসই এবং নিরাপদ নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে গাজীপুর-টঙ্গী-উত্তরা-বিমানবন্দর করিডরে ২০ কিলোমিটার বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) লাইন নির্মাণের কাজ। এই রুটে চলাচলের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হবে ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস। এসব গাড়ি কখনো মাটি ঘেঁষে আবারও কখনো এলিভেটেড সড়কে চলাচল করবে। এ র‌্যাপিড ট্রানজিট চালু হলে দুর্ভোগের ঢাকা-গাজীপুর সড়ক মাত্র ৪০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া যাবে। আর এ রুটে বাস মিলবে দেড় থেকে তিন মিনিট পরপর।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব শরিফা খান এবং ফরাসি সরকারের অর্থায়নকারী সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্সিস ডি ডেভেলপমেন্টের (এএফডি) পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর বেনিওইট ক্যাসেট ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্প তিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো গাজীপুর থেকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট অবকাঠামো নির্মাণ করে দ্রুত নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত উত্তর কাট্টলী ক্যাচমেন্ট এলাকার জন্য পয়ঃনিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ; এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় একটি জ্বালানি-দক্ষ, স্বল্প কার্বন নির্গমন ও জলবায়ু সহনশীল কাঠামোর জন্য গ্রিন ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ডের জন্য বিনিয়োগ সুবিধা সম্প্রসারণ করা।

২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে এএফডি কার্যক্রম শুরু করে। এটি হলো একটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা যা ফরাসি সরকারের পক্ষে উন্নয়ন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে। নগর উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, সবুজ শক্তি, করপোরেট এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহে সংস্থাটি আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।

আলোচ্য প্রকল্পসমূহ ভৌত ও অবকাঠামোগত খাতে ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও টেকশই উন্নয়ন অভীষ্ট এর বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। এ পর্যন্ত সংস্থাটি বাংলাদেশে ২১০ কোটি ১০ লাখ ডলার কারিগরি সহায়তা ও ঋণ প্রদান করেছে, যার মধ্যে জুন ২০২২ পর্যন্ত ১০৩ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থছাড় হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত