কেজিতে নয়, গ্রামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৩, ১০:২৬ এএম

একদিকে কমেছে আয়-রোজগার। অন্যদিকে কাঁচা মরিচসহ বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। আমাদেরতো আর ইনকাম বাড়েনি। এতে পরিবারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি—ক্ষোভ প্রকাশ করে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইরের জয়মন্টপ বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা জাবেদ মোল্লা।

ঈদ শেষে হঠাৎ করেই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে হাট-বাজারে কাঁচা মরিচের দাম আকাশচুম্বী। গত দুই সপ্তাহ আগে বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকায়। ঈদের ৪-৫ দিন আগে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি দুইশ থেকে তিনশ টাকায়। ঈদের আগের দিনও যে মরিচ চারশ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেই মরিচ ঈদের পর একলাফে ছয়শ টাকা। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

শনিবার (০১ জুলাই) সকালে উপজেলার বৃহত্তম জয়মন্টপ বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ছয়শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানুষ উপায় না পেয়ে চাহিদার চেয়েও অনেক কম পরিমাণ মরিচ ক্রয় করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দামের ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দেখা গেছে তর্ক করতে।

জানা গেছে, কাঁচা মরিচ আবাদ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণত এ সময়টা আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে মরিচ গাছের ফলন একেবারে কমে যায়। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গাছ মরেও যায়। গত সপ্তাহের আগ পর্যন্ত মরিচের উৎপাদন ভালোই ছিল। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধিসহ খরা ও বৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়াও বাইরে থেকে মরিচ না আসায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়াও সম্প্রতি অতিখরা ও মাঝে মধ্যে অতিবর্ষণে মরিচের গাছ শুকিয়ে ফলন কমে গেছে। যার কারণে হাট-বাজারে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এর দাম বেড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে। এর ফলে মরিচ এখন কেজির বদলে গ্রামে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার বায়রা বাজারের ব্যবসায়ী লোকমান বলেন, কাঁচা মরিচ ও জিরাসহ অন্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমার প্রতিদিনের বিক্রি এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই মরিচসহ অন্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত