পবিত্র ঈদুল আজহার দিন গত বৃহস্পতিবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনে। গুলশানের ফিরোজায় তার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নেতারা।
রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়েও কথা বলেন। দলের প্রধান আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোসহ নানা পরামর্শ দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির ৬ সদস্য। তারা হলেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান।
সূত্র বলছে, মূলত ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে নেতাদের মধ্যে। এর মধ্যে নানা প্রসঙ্গ এসেছে। খালেদা জিয়া দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মিষ্টি-সেমাই দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন। শারীরিকভাবে কিছুটা ভালো বোধ করায় নেতাদের সঙ্গে বসে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা বিষয়ে কথা বলেন। এ ছাড়া দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ড, সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ উপস্থিত নেতাদের পারিবারিক নানা প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে। কথোপকথনের একপর্যায়ে খালেদা জিয়া নেতাদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের ওপর যে নির্যাতন-নিষ্পেষণ চালাচ্ছে সরকার, তাতে এই সরকারের বিদায় করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। জনগণকে শান্তি দিতে হলে যেকোনো উপায়ে সরকার পরিবর্তন দরকার। বিএনপি যে আন্দোলন করছে, তা সঠিক পথেই রয়েছে। তবে জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
ওই সূত্র আরও বলছে, আলোচনায় খালেদা জিয়া এও বলেছেন, কে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী হবেন সেটি এখন মুখ্য বিষয় নয়। চলমান দুঃশাসনের অবসান হওয়া জরুরি।
যদিও সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের বলেছেন, এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। কোনো রাজনৈতিক আলাপ হয়নি। ওই দিন রাতে খালেদা জিয়ার বাসভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে এটা একটা সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল। এই সাক্ষাতে কোনো রাজনৈতিক আলাপ হয়নি। আমরা তার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি, উনি কেমন আছেন জানতে চেয়েছি। উনিও আমাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন আমাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন।’
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে সাবেক এই স্পিকার বলেন, ‘শারীরিকভাবে উনার উন্নতি হয়েছে, এটা বলা যায় না। উনার চিকিৎসা আগে যেভাবে ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন সেভাবেই হচ্ছে। আমরা তাকে যতটুকু দেখেছি, তার অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা করা একান্তভাবে প্রয়োজন। যেটা এ দেশে নেই। বাইরের কোনো দেশে, সেখানে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।’
কারাভোগের থেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্ত হয়ে ‘ফিরোজা‘য় উঠায় নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান না। শুধু দুই ঈদে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পান। তবে মাঝে দলের ও জোটের কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে দেখা করেছেন।
এর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না গত ৮ মে রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মান্না।
