পঞ্চগড়ে বৃষ্টির পানিতে বন্দি শতাধিক পরিবার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩, ০২:৩৮ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় খাল ভরাট করে অপরিকল্পিত জনবসতি গড়ে তোলায় জালাসি-হাড়িভাসা আঞ্চলিক সড়কের ভাঙ্গামালী সেতুর নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে টানা বৃষ্টিতে পৌর এলাকার হঠাৎপাড়া ও সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিন-চার দিন ধরে তাদের চুলায় আগুন জ¦লেনি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছে বাসিন্দারা। এ ছাড়া পানি জমে থাকায় আমন মৌসুমে শতাধিক একর ফসলি জমিতে চারা লাগানো নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, জালাসি-হাড়িভাসা সড়কের বানিয়ার মিল এলাকায় ভাঙ্গামালী সেতুর নিচ দিয়ে বর্ষার সময় কয়েকটি গ্রামের পানি প্রবাহিত হয়ে আসছিল। গত বর্ষা মৌসুমেও এই সেতুর নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এক বছরের মধ্যে সেতুর দক্ষিণে পৌর এলাকার পশ্চিম চানপাড়া গ্রামে জমি কিনে মানুষজন অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করতে থাকে। ঘর ও দেয়াল নির্মাণের ফলে পানি চলাচলের জায়গা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঈদের পরদিন গত শুক্রবার রাতভর ভারী বৃষ্টির কারণে শুরু হয় জলাবদ্ধতা। সেতুর উজানে পৌর এলাকার হঠাৎপাড়া গ্রামে পানি জমে সেই পানি চলে যায় সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামে। পানি সরে যাওয়ার জন্য বলেয়াপাড়ায় একটি ছোট রিং কালভার্ট থাকলেও সেটা দিয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সেখানেও শুরু হয় জলাবদ্ধতা। এরই মধ্যে ফের ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ঘরে পানি প্রবেশ করায় গত শুক্রবার থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত শতাধিক পরিবারে রান্নার চুলা জ¦লেনি। বলেয়াপাড়া গ্রামে আলোর পথিক নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ৩০টি পরিবারের জন্য গতকাল খিচুড়ি রান্না করে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছে। সরকারিভাবে তাদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বলেয়াপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সলিমত আলী বলেন, ‘চার দিন ধরে আমাদের বাড়িতে চুলা জ্বলছে না। ঘরে পানি উঠে পড়ায় রাতে বাড়িতেও থাকতে পারছি না। আশপাশের মানুষজন আমাদের রান্না করে খাবার দিচ্ছে। আমার জীবনেও দেখিনি আমাদের বাড়িতে পানি উঠছে। গত বর্ষায়ও আমাদের বাড়িতে পানি ওঠেনি।’

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল ইমরান খান বলেন, ‘আমি নিজে এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। যে সেতু দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে, সেটি পৌর এলাকার। বিষয়টি আমি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। আমার একার পক্ষে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।’

পঞ্চগড় পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুন বলেন, ‘আমি নিজেই হঠাৎপাড়া এলাকা পরিদর্শনে এসেছি। সেতুর পানিপ্রবাহ বন্ধ করে কীভাবে বসতবাড়ি গড়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখছি। স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে প্রশাসনের সহায়তায় উদ্যোগ গ্রহণ করব।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুল হক বলেন, ‘উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে শুকনো খাবার ও খিচুড়ি বিতরণের নির্দেশ দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে তাদের সহায়তা করা হবে। আর মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করেছি, কীভাবে ওই সেতুর পানি চলাচল স্বাভাবিক করা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত