চিনি প্যাকেটজাত করতে ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৩, ১১:০৩ পিএম

চিনির বাজারের অস্থিরতার মধ্যে দামের লাগাম টেনে ধরতে বাজারে খোলা চিনি বিক্রি বন্ধের সুপারিশ করেছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন-বিটিটিসি। সংস্থাটির মতে শতভাগ চিনি মোড়কজাত করে বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করলে দাম কমতে পারে। এক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করেছে সরকারি এই সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে চিনির বাজারে অস্থিরতা কোনোভাবেই থামছে না। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, তার থেকে বাড়তি দামে বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে। চিনির দামে লাগাম না থাকার জন্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটসহ নানা কারণ উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে।

সরকারি সংস্থাটি বলছে, দেশে প্রতি বছর ২২ থেকে ২৪ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি ও ৫০ হাজার টন পরিশোধিত চিনি আমদানি হয়ে থাকে। অপরিশোধিত চিনি পরিশোধনের পর বাজারে আসে। বিক্রি হয় ৫০ কেজির বস্তায় ও এক কেজির প্যাকেটে।

প্যাকেটজাত চিনির দাম মোড়কে লেখা থাকে, তাতে সহজে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে পারেন না বিক্রেতারা। তবে ৫০ কেজির বস্তায় ভরে যে খোলা চিনি বাজারে ছাড়া হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে দোকানিরা এক কেজির প্যাকেট করে খুচরায় বিক্রি করেন। সে ক্ষেত্রে তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম রাখেন, যা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে।

এদিকে দাম নিয়ে সরকারের সঙ্গে বনিবনা না হলে কোম্পানিগুলো বাজারে চিনির সরবরাহ কমিয়ে দেয়। তখন বাজারে কিছু খোলা চিনি ছাড়লেও প্যাকেটজাত চিনির সরবরাহ একেবারে কমিয়ে ফেলে তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাজারে ৯৫ শতাংশ চিনিই খোলা বিক্রি হয়। বাকি ৫ শতাংশ চিনি প্যাকেটজাত করে ছাড়ে কোম্পানিগুলো। এই ৫ শতাংশ চিনির প্যাকেটের গায়ে দাম উল্লেখ করে দেওয়ার কারণে কোম্পানি থেকে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে রাখতে গেলে ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়েন বিক্রেতারা।

বিটিটিসি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে জানিয়েছে, বাজারে চিনির দাম স্থিতিশীল রাখতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক কেজির পাশাপাশি আধা কেজি, দুই ও পাঁচ কেজির প্যাকেটজাত চিনি বাজারে আনা যেতে পারে। আর ৫০ কেজির চিনির বস্তা শুধু করপোরেট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হবে। তাতে খুচরা বাজারে বস্তার চিনি ভেঙে কেজি দরে বাড়তি দামে বিক্রি করার সুযোগ থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত