‘আমরা ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে চাই’ ব্যানারে রাজধানীর পূর্ব জুরাইনে জনসভা আহ্বান করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টায় পূর্ব জুরাইনের মিষ্টির দোকান এলাকায় এ জনসভা হওয়ার কথা রয়েছে।
জনসভা আয়োজকদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানানো হয়। তারা এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠায় সংবাদমাধ্যমে।
এতে বলা হয়, অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করে আক্রান্তদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া এবং এডিস মশা নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে এ জনসভা আহ্বান করা হয়।
জনসভার সংগঠক ফেরদৌস রহমান তুষার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জুরাইনে এ অবস্থা মহামারির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এ অবস্থা প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম খুবই হতাশাব্যঞ্জক।
তিনি বলেন, অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া এবং এডিস মশা নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে জুরাইনের সাধারণ মানুষ এ জনসভার আয়োজন করেছে।
এ উপলক্ষে প্রচারপত্রে বলা হয়, ‘ডেঙ্গুতে বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত জুরাইন, শ্যামপুর, দনিয়া, যাত্রাবাড়ী এলাকার লাখ লাখ মানুষ। এই অঞ্চলে প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের বসবাস বেশি। প্রান্তিক মানুষের জীবনে যেকোনো সমস্যা ভয়াবহ রূপে হাজির হয়। অনেকে জমানো টাকা, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি, ঋণ এবং মানুষের কাছে হাত পেতে তাদের প্রিয়জনকে ডেঙ্গু থেকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন’।
প্রচারপত্রে বলা হয়, ‘আমরা জানতাম শুধু পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা জন্মায়। এডিস মশা দিনে কামড়ায়। এখন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারছি এডিস মশা ময়লা পানিতেও জন্মায়, রাতেও কামড়ায়। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য যারা রক্ত জোগাড় করেন। তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর মৌসুম এখনো শুরু হয় নাই। একবার ভাবুন, মৌসুম শুরুর আগেই যদি এই ভয়াবহ পরিস্থিতি হয় তাহলে মৌসুম যখন শুরু হবে তখন কেমন ভয়ংকর অবস্থা হতে পারে? গত ২০২১ সালে শুধু জুরাইনে ২০ জনের অধিক মানুষ ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিল। সিটি করপোরেশনের চরম অবহেলা আমাদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমরা আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং একটাও মৃত্যু চাই না’।
তবে মশক নিধন কার্যক্রমে করপোরেশনের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফজলে শামসুল কবির।
তিনি বলেন, ‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার। মশক নিধন কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের পর্যাপ্ত জনবল আছে, পর্যাপ্ত ওষুধ আছে, পর্যাপ্ত মেশিনপত্রও আছে।’
