রাজধানীর গুলশান-১-এ ঝুঁকিপূর্ণ ‘গুলশান শপিং সেন্টার’ ভবনটি সিলগালা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে শপিং সেন্টারটি ভেঙে ফেলার আগে অন্তত দুই বছর সময় চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারাও একমত। তবে এজন্য তাদের অন্তত দুই বছর সময় দিতে হবে। সময় পেলে তারা ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুটিয়ে ফেলতে পারবেন। মার্কেট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে সিকিউরিটির অর্থসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেটেলমেন্টও করতে চান ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া সময় পেলে ব্যাংক ঋণ ও দোকানে থাকা মালামালের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবেন তারা। না হলে ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি দল ছয়তলাবিশিষ্ট ওই ভবন থেকে সবাইকে বের করে দেয়। পরে মার্কেটের দুই ফটক খোলা রেখে বাইরের সব ফটক সিলগালা করে। পরে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলশান-১-এর গোলচত্বরের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে মার্কেট ভেঙে ফেলার আগে সময় দাবি করেন। এতে ওই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেলা ৩টায় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ব্যবসায়ীরা।জানতে চাইলে ডিএমপির গুলশান থানার পরিদর্শক (প্যাট্রল) সেলিম রেজা বলেন, ব্যবসায়ীদের বারবার বোঝানোর পরও সরতে চাননি। পরে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যখন তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল তখন তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, বিকেলে ব্যবসায়ীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার কথা বললে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে গুলশান থানার পরিদর্শকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, এই ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা না থাকায় ২০২১ সালে ফায়ার সার্ভিস ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে বলে। কিন্তু এত দিনেও কোনো কিছুই ঠিক করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, রাস্তা ছেড়ে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করি। দাবি নিয়ে কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলি। তারা না সরায় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন থেমে থাকা গাড়িগুলো চলতে শুরু করলে তারা গাড়ির ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এ সময় লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ গুলশান শপিং সেন্টারের ব্যবসায়ী ওসাসির আলম বলেন, আমি মালিকের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নেওয়ার সময় অনেক টাকা সিকিউরিটি দিয়েছি। দোকানে লাখ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসার ওপরে ব্যাংক থেকে অনেক টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এখন হঠাৎ করে মার্কেট বন্ধ করে দিলে কীভাবে কী হবে। আমরা মার্কেট ভাঙার বিপক্ষে নই। তবে আমাদের অন্তত দুই বছর সময় দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সময় পেলে আমরা মার্কেট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে সিকিউরিটির অর্থসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটা সেটেলমেন্টে আসতে পারব। এ ছাড়া ব্যাংক ঋণ ও দোকানে থাকা মালামালের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারব। তা না হলে তো আমরা শেষ হয়ে যাব। একই মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, মার্কেট বন্ধ করে দিলে তো আমরা লাখ লাখ টাকার লোকসানে পড়ে যাব। এই লোকসান কাটিয়ে আমরা কোনোদিন দাঁড়াতে পারব না। আমাদের ব্যাংকে ঋণ আছে, মালিককে সিকিউরিটি মানি দেওয়া আছে, আবার দোকানে লাখ লাখ টাকার মালামাল আছে। এসব বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান করতে আমাদের আরও এক বছরের মতো সময় প্রয়োজন আছে।
তিনি আরও বলেন, সময় দেওয়া হলে নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারব। তখন সিটি করপোরেশন নিয়ম অনুযায়ী মার্কেটের ভবন ভেঙে ফেললে আমাদের সমস্যা নেই। এর আগে আমরা মার্কেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারব না। সময় বৃদ্ধির আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তাও ছাড়তে পারব না।
