হিরো আলমের ঘটনায় ১৩ দূতাবাস ও মিশনের বিবৃতি

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩, ০৬:৪৪ এএম

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ১৩টি দূতাবাস ও হাইকমিশন। গতকাল বুধবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দেশগুলো।

এদিকে এ ঘটনায় ঢাকায় পশ্চিমা মিশনগুলো বিবৃতি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বলেই তারা... একটা মগের মুল্লুক পেয়েছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

যৌথ বিবৃতিতে দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, ‘ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী আশরাফুল আলমের (যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত) ওপর হামলার ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিসংসতার কোনো স্থান নেই। আমরা পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের জবাবদিহির দাবি জানাই। আসন্ন নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়, সেজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলো হলোÑ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন।

গত সোমবার ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের শেষমুহূর্তে হিরো আলমের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার উদ্বেগ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গত মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এদিকে হিরো আলমের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে ঢাকায় পশ্চিমা মিশনগুলো বিবৃতি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ মারা গেলে তারা এভাবে বিবৃতি দেয় কি না।

ড. মোমেন আরও বলেন, ‘এটার সম্পর্কে আমি জানি না। একটি দেশ সম্পর্কে আমি বলতে চাই, আমেরিকার নিউ ইয়র্কে যখন-তখন লোক মেরে ফেলা হয়। তারা কি স্টেটমেন্ট দেয় কখনো? জাতিসংঘ কখনো বলেছে, আমেরিকাতে লোক মরে যায় কেন?’

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থী সাইদ ফয়সাল ওরফে আরিফের প্রসঙ্গ টেনে ড. মোমেন বলেন, ‘একটা বাঙালি ছেলে মারা গেল... এতদিন হলো জাতিসংঘ কখনো বলেছে, ওই ছেলের তদন্ত কতদূর হয়েছে? কিংবা রাষ্ট্রদূতরা দল বেঁধে কোনো বিবৃতি দিয়েছেন?’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘আপনারা তাদের কেন জিজ্ঞাসা করেন না, প্রতিদিন লোক মারা যায় তখন তারা কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না। আর বাংলাদেশ হলেই একটা মগের মুল্লুক পেয়েছে, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আপনাদের সঙ্গে তাদের (বিদেশি দূতদের) যখন-তখন সাক্ষাৎ হয়। আপনারা তাদের জিজ্ঞাসা করেন না কেন, বাঙালি ছেলে মেরে ফেলল। আমেরিকায় তো যখন-তখন লোক মারা যায়, এগুলো নিয়ে আপনি প্রশ্ন করেছেন কখনো? ফয়সালের কথা প্রশ্ন করেছেন? কেন করেননি? আপনাদেরও এসব বিষয়ে সজাগ হওয়া উচিত। খালি আমার দেশ হলে হইচই করা শুরু করে দেয়। আর কোথাও হলে এ ধরনের হয়...?’

ড. মোমেন বলেন, ‘আমাকে একটা প্রতিবেদন দেন কোন দেশে তারা (বিদেশিরা) এ ধরনের বিবৃতি দিয়েছে ওখানে লোক মারার পর। কিছুদিন আগে ফ্রান্সে কতগুলো লোক আক্রান্ত হলো, কেউ কি দল বেঁধে বিবৃতি দিয়েছে? শুধু বাংলাদেশ হলেই দেয়। এখন সময় এসেছে এসব প্রচার বন্ধ করার। তারা আমাদের কাছে বিবৃতি না দিয়ে আপনাদের কাছে দেয়। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

হিরো আলমের ওপর হামলা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কারা মারল এটা তদন্ত করে দেখতে হবে। কে মারিয়েছে... এমন তো হতে পারে কেউ কেউ এটাতে যুক্ত ছিল। একটা অস্থিতিশীলতা তৈরি করার জন্য হয়তো কেউ আমাদের আগামী নির্বাচন চায় না। নির্বাচন বানচাল করার জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করে দিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত