মাদারীপুরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ছিলারচরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে শেফালী বেগম, মহিবুল শিকদার, মিজান শিকদার, আজাহার শিকদার, রানু বেগম, সাহাবুদ্দিন শিকদার ও সালাউদ্দিনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকার নজরুল শিকদারের মেয়েকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত প্রতিবেশী সাহাবুদ্দিন শিকদারের ছেলে শাকিল শিকদার। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠকও হয়। এরই জেরে গতকাল সকালে শাকিল প্রথমে নজরুলের ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে আহত হয় নারীসহ অন্তত ২০ জন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন চিকিৎসক।
নজরুল শিকদার বলেন, ‘আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে শাকিল। এর প্রতিবাদ করায় অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে পরিবারের সবাই আহত হয়েছি। এ ঘটনার বিচার চাই।’
সাহাবুদ্দিন শিকদার বলেন, ‘হঠাৎ নজরুল তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সিহাব চৌধুরী জানান, সংঘর্ষে আহত অবস্থায় যারা হাসপাতালে এসেছেন, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ফকির জানান, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
