তাপপ্রবাহে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩, ১১:০১ পিএম

রেকর্ডভাঙা গরমে পুড়ছে পৃথিবীর বিস্তীর্ণ এলাকা। চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে ইউরোপ জুড়ে বইছে তীব্র গরম। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোনো এলাকার তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। চীন-জাপানও পুড়ছে উত্তাপে। বিশ্বের গড় তাপমাত্রার রেকর্ডও ইতিমধ্যে ভেঙেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, দাবদাহের কারণে মহাসাগরগুলোও নীরব ক্ষতির মুখে পড়ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, চলমান তাপপ্রবাহে নাকাল ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার জনজীবন। চলতি বছর সবচেয়ে উষ্ণ বছর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসবের জেরে শুধু মানুষই নয়, বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পৃথিবীর স্থল ও জলভাগও হুমকির মুখে পড়েছে।

বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার নতুন এই রেকর্ড ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে যান্ত্রিক রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে থার্মোমিটারের পারদ পৌঁছায় সর্বোচ্চ অবস্থানে। ৩ জুলাই প্রথমবারের মতো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি নাসার গোড্ডার্ড ইনস্টিটিউট অব স্পেস স্টাডিজের পরিচালক গ্যাভিন স্মিড বলছেন, চলতি জুলাই মাস থেকে চলেছে পৃথিবীর জানা ইতিহাসের উষ্ণতম মাস।

আবহাওয়ার এ অবস্থার জন্য কেউ কেউ সরাসরি এল নিনোকে দায়ী করছেন। খোদ ইউএস ন্যাশনাল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল প্রেডিকশনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো এবং মানুষের তৈরি কার্বন ডাই-অক্সাইডের ক্রমাগত নির্গমন বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে আশঙ্কাজনক হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে করে তৈরি হচ্ছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার একের পর এক রেকর্ড।

বিষয়টি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডসের অধ্যাপক জন মারশাম। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। খাবারের জোগান ও দামের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এই প্রভাব হয়তো আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি না। তবে সামনের দশকগুলোয় এটা আমার ভয়ের কারণগুলোর একটি হতে পারে।

এর আগেও দাবদাহের প্রভাব দেখেছে বিশ্ব। ২০১৮ সালে ইউরোপে তাপপ্রবাহের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মধ্য ও উত্তর ইউরোপে ফসলের উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। আর ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে ফল ও সবজির উৎপাদন।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০৪০ সাল নাগাদ এমন তাপপ্রবাহের সংখ্যা ১২ গুণ বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরেও তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে সাগরে থাকা মানুষের খাদ্যের উৎসগুলোও হুমকির মুখে পড়েছে। কানাডার প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল জুড়ে ২০২১ সালের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সেবার সাগরের প্রায় ১০০ কোটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছিল।

এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের অধ্যাপক ড্যানিয়েলা স্মিড বলেন, মানুষ সাধারণত সাগরে তাপপ্রবাহের বিষয়ে অতটা চিন্তা করে না। তবে চোখের আড়ালে মহাসাগরগুলো নীরবে মারা যাচ্ছে, এটাই আমাকে মূলত শঙ্কিত করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত