পাবিপ্রবিতে সাংবাদিক পেটাল ছাত্রলীগ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৩, ০৭:১১ এএম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক সংবাদকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সংবাদকর্মীকে চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন নয়া শতাব্দীর পাবিপ্রবি প্রতিনিধি এবং পাবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার খামচাষী ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামের মো. মোমিনুল্লাহর ছেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন।

পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মিনহাজুল ইসলাম প্রান্তর নেতৃত্বে তার ওপর হামলা হয় জানিয়ে সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বেলা ২টার দিকে খবর পাই যে আমার ক্যাম্পাসের এক সাংবাদিক সহকর্মীকে কে বা কারা ক্যাফেটেরিয়ায় আটকে রেখেছেন। আমি এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্যাফেটেরিয়ার দিকে গেলে প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে বলেন, “তুই কে?” আমি আমার পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা টেনে ভেতরে নিয়ে যান। কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসিসহ পেটে লাথি মারতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।’

পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত, সাবেক সহসভাপতি মাসুদ রানা, সাবেক প্রচার সম্পাদক একরামুল ইসলাম সাগর, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তৌফিক আহমেদ হৃদয় ও ছাত্রলীগকর্মী জহুরুল ইসলাম পিয়াসসহ বেশ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলেও জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। এ সময় তার চিৎকারে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে ক্যাফেটেরিয়ার ওপরতলায় চলে যান। পরে সহকর্মী ও বন্ধুরা উদ্ধার করে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলাকারীরা বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আওয়াল কবির জয় ও ছাত্রলীগ সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবুর অনুসারী।

এ প্রসঙ্গে পাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অপকর্ম ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার কারণে ছাত্রলীগ নেতকর্মীরা এ হামলা করেন। আমরা এ হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তারা বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ হলেই ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। তারা ক্যাম্পাসে মাদক বেচাকেনা ও সেবন করেন। এর আগে মাদক নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তারা আমাদের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বসে সমঝোতা করে দেন। এ ঘটনার পর আমাদের সহকর্মী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব দুর্জয় কর্মকারকে ছাত্রলীগ ধরে নিয়ে গেছে। প্রথমে তাকে প্রক্টর স্যারের রুমে নিয়ে বসিয়ে সাদা কাগজে কী যেন লিখিয়ে নিয়েছেন। তারপর থেকে আমরা দুর্জয়কে খুঁজে পাচ্ছি না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্পাসের কয়েকজন সংবাদকর্মী অভিযোগ করে বলেন, পাবিপ্রবির চলতি উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ পেয়েছেন। এসব প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ করতে গেলেই তারা বাধা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখান। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের শান্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।

হামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মিনহাজুল ইসলাম প্রান্তর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বলেন, ‘আমি গ্রামের বাড়িতে আসছি, বিষয়টি জানা নেই। তবে এরা (হামলাকারীরা) আমার সঙ্গের নয়।’ ক্যাম্পাসে মাদক কেনাবেচার বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি স্বীকার করেন এই ছাত্রলীগ নেতা।

আর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘কোনো সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনা আমার জানা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এমনটি হতে পারে। প্রান্তরা (হামলাকারীরা) আমার সঙ্গে রাজনীতি করলেও তারা মাদকের সঙ্গে জড়িত নন।’

এ বিষয়ে পাবিপ্রবির প্রক্টর ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আবদুল্লাহ আল মামুনকে মারপিট করার বিষয়টি শুনে আগে তাকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। পরে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রলীগের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ভাগাভাগির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

পাবনা সদর থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তারা (হামলার শিকার সাংবাদিক) থানায় লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেও জানিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত