কয়েক দিন ধরেই জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছিল না চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংকে। এ নিয়ে দেশটির ভেতর-বাইরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়, ডালপালা মেলে নানা জল্পনা-কল্পনা। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আস্থাভাজন হিসেবেই পরিচিত কিনের হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ায় ভাবনা বাড়ছিল কূটনীতিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরও। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার কিনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবর এলো।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, কিনের পূর্বসূরি ওয়াং ই ফের দায়িত্ব নিচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। গত ডিসেম্বরে ওয়াং ই’র বদলে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন কিন। আর ওয়াং ই ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, কিনকে সর্বশেষ দেখা যায় গত ২৫ জুন। ওইদিন শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া ও ভিয়েতনামের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কিনকে সর্বশেষ বেইজিংয়ে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। আর আগে ওই মাসেই তিনি গত জুনে টানা বেশ কয়েকটি আয়োজনে অংশ নিয়েছেন কিন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বৈঠকে তাকে দেখা যায়নি, অথচ যেখানে তার উপস্থিতি আবশ্যক ছিল বলে উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কিনের নিরুদ্দেশ হওয়ার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সফরও বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে কারণে কিনের অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তার মন্ত্রণালয় থেকেও কিনের কী হয়েছে সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি। গত সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কারণে কিনের ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে না পারার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে কিন কোথায় আছেন সে বিষয়ে সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংকে প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য তার হাতে নেই।
