সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ

সিলিং ফ্যানে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে রোগী দেখেন ডাক্তার

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩, ১০:৩৪ পিএম

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে টর্চলাইট ধরে রোগীদের সেলাই ও ড্রেসিংয়ের কাজ চলে। হাসপাতালের জেনারেটর অকেজো হওয়ায় বিদ্যুৎ চলে গেলে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগে এভাবে রোগী দেখছেন।

এজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দায়ী করছেন জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ জরুরি বিভাগে অন্তত দুটি চার্জার লাইট লাগালে অন্ধকারে সেবা নিতে হতো না। একটি চার্জার লাইট বিদ্যুৎ চলে গেলেও ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আলো দেয়।

গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলের টর্চলাইট জ্বালিয়ে রোগীকে সেবা দিচ্ছেন দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) সাদেকুল করিম আরাফাত। তিনি টেবিলের ওপর মোবাইল ফোনের টর্চলাইট জ্বালিয়ে সামান্য আলোতে রোগী দেখছেন। একটি মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে টেবিলে রেখেছেন, আরেকটির টর্চ জ্বালিয়ে সিলিংয়ে বৈদ্যুতিক পাখার ওপরে রেখেছেন যেন আলো বেশি পাওয়া যায়। পাশের কক্ষে ছিলেন মেডিকেল অফিসার ফরহাদ উদ্দিন খান। তিনিও অন্ধকারে মোবাইলের টর্চলাইট জ¦ালিয়ে রোগীর সেবা দিচ্ছেন। ওই সময় জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়।

মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভোয়াগ গ্রাম থেকে মো. আলম নামে এক ব্যক্তি তার ভাইকে নিয়ে এসেছেন। অন্ধকারে জরুরি বিভাগের বেডে রোগী শুয়ে আছেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এটা সোনাগাজীর প্রধান হাসপাতাল। এই হাসপাতালের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আমরা কোথায় যাব? বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিকল্প আলোরও কোনো ব্যবস্থা নেই। জরুরি বিভাগে অন্ধকারে সুস্থ মানুষও ভয়ে রোগী হয়ে যাবে। মো. হাছান নামে ভাদাদিয়া গ্রামের আরেক রোগী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাত-পায়ে জখম নিয়ে এসেছেন। চিকিৎসক তার সহযোগীর মোবাইলের সামান্য আলোতে কোনোরকমে জখমের জায়গাগুলো পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিয়েছেন। চিকিৎসা নিতে আসা ওলামাবাজারের আমিন উদ্দিন বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আমার ঠোঁট কেটে যায়। হাসপাতালে এসে দেখি বিদ্যুৎ নেই, চিকিৎসকরা মোবাইলের লাইট ধরে সেলাই করে দিয়েছেন। সেলাই ঠিকঠাক হয়েছে কি না জানি না। আমার পাশে এক রোগীকেও অন্ধকারে ড্রেসিং করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সাদেকুল করিম আরাফাত বলেন, হাসপাতালের জেনারেটর নষ্ট হয়ে আছে। গত কয়েকমাস থেকে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইলের টর্চলাইট আমাদের ভরসা। মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে সামান্য আলোতে রোগীর সেলাই, ড্রেসিং পর্যন্ত করতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উৎপল দাস জানান, জেনারেটর নষ্ট থাকার কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগ অন্ধকারে থাকে। উপজেলা পরিষদ থেকে গত বছর একটি জেনারেটর দেওয়া হলেও তিন মাস পর তা নষ্ট হয়ে যায়। ওয়ারেন্টি কার্ড না থাকায় সার্ভিসিং করা যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ওয়ারেন্টি কার্ড কোথায় হারিয়ে গেছে জানি না, আমি আসার আগে ওই জেনারেটর বসানো হয়েছে। বিষয়টি আগামী সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হবে।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. শিহাব উদ্দিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চাইলে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কয়েকটা চার্জিং লাইট লাগাতে পারতেন। এটা আন্তরিকতার অভাব। কয়েকটা লাইট লাগানো কোনো বিষয় না, এটা চাইলেই করা যায়। আমি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বলব বিদ্যুৎ চলে গেলেও জ্বলে এরকম কয়েকটা লাইট জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালে লাগানোর জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত