শান্তি সমাবেশ শেষে আ.লীগে সংঘর্ষ, নিহত ১

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৩, ০৬:৪৬ এএম

শান্তি সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার পথে রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন যুবলীগকর্মীসহ চারজন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের পাশের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম রেজাউল করিম। তিনি শেরপুরের নকলা উপজেলার পশ্চিম নারায়ণ খোলা গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে।

আহতরা হলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার যুবলীগকর্মী নোমান হোসেন রনি (৩২), দিনমজুর মোবাশ্বের (২৩), রাজমিস্ত্রি আরিফুল ইসলাম (১৮) ও স্কুলশিক্ষার্থী মো. জুবায়ের হোসেন (১৬)। তাদের অবস্থাও গুরুতর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত যুবলীগকর্মী নোমান ছাড়া অন্যরা দাবি করেছেন, তারা ব্যক্তিগত কাজে ওই স্থান দিয়ে যাচ্ছিলেন। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে আহত হয়েছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেখানে সংঘর্ষ হয়েছে, সেখানে বিএনপি সমর্থকদের যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা শুনেছি আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন চারজন। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত রনির সঙ্গে থাকা কেরানীগঞ্জ মডেল থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈকত হাসান বিপ্লব দেশ রূপান্তরকে জানান, তারা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিন আহমেদ চেয়ারম্যানের সমর্থক। নেতাকর্মী নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে এসেছিলেন। সমাবেশ শেষ করে সেখান থেকে কেরানীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের পাশে এলে তখন পেছন থেকে আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে একজনকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, সমাবেশে কামরুল ইসলামের সমর্থক ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে শাহিন আহমেদের নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল।

পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়া নিহত রেজাউলের পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই যুবকের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সিম কার্ডের সূত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তবে এখনো তার কোনো আত্মীয়স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিট ওই যুবকের আঙুলের ছাপ নিয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই যুবকের বাম পায়ের ঊরুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। বাকি চারজনের অবস্থাও গুরুতর। তাদের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত জুবায়ের হোসেনের বাবা শাহজালাল ব্যাপারী জানান, তাদের বাসা পুরান ঢাকার বাংলাদেশ মাঠ এলাকায়। আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে জুবায়ের। মোবাইলের কাভার কিনতে গুলিস্তান গিয়েছিল সে। তখন সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ে আঘাত করা হয়।

আহত আরিফুল ইসলামের সহকর্মী আলমগীর হোসেন জানান, আরিফুলের বাড়ি নওগাঁর সাপাহার উপজেলায়। বঙ্গবাজার এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন তারা। মোবাইল কিনতে বিকেলে গুলিস্তান গিয়েছিলেন। তখনই সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন।

আহত মোবাশ্বেরের ছোট ভাই মো. মারুফ মিয়া জানান, তারা মতিঝিল আরামবাগ এলাকায় থাকেন। মোবাশ্বের দিনমজুরের কাজ করেন। তিনিও মোবাইল কিনতে গুলিস্তান গিয়েছিলেন। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। আঘাতের কারণে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত