ইসলামের দৃষ্টিতে মহররম একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাস। ইসলামপূর্ব আরবের অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজেও মহররম মাসের বিশেষ মর্যাদা ছিল। কেননা পবিত্র কোরআনে যে চার মাসকে সম্মানিত বলা হয়েছে মহররম তার অন্যতম। তবে মহররমের ১০ তারিখ তথা আশুরা বিষয়ে মুসলিম সমাজে যেসব কথা প্রচলিত আছে তার কিছুসংখ্যকের ভিত্তি থাকলেও বেশির ভাগেরই কোনো ভিত্তি নেই অথবা তা খুব দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নিম্নে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো-
আশুরার দিন কিয়ামত হবে: প্রচলিত আছে যে আশুরার দিন শুক্রবার কিয়ামত সংঘটিত হবে। তবে কথাটি সঠিক নয়। এ কথার কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায় না। কিছু ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে এসব কথা বলা হয়।
হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়: কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় আশুরার দিনেই হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়েছে। এ কথা আবুল কাসিম ইস্পাহানি (রহ.) কর্র্তৃক সংকলিত ‘আত-তারগিব ওয়াত তারহিব’-এর ১৮৬৮ নম্বর বর্ণনায় এসেছে। কিন্তু এই বর্ণনার সনদ খুবই দুর্বল। এ ছাড়া আরও কিছু বর্ণনায় এই কথা এসেছে, তবে সেগুলো বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
অবশ্য কোনো কোনো তাবেয়ি থেকে এই কথা বর্ণিত হয়েছে যে তারা হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হওয়া সম্পর্কে আশুরার দিনের কথাই বলতেন। -ইমাম ইবনে রজব, লাতাইফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা : ১১৩-১১৫
হজরত নুহ (আ.)-এর নৌকা পাহাড়ে থেমেছিল: আশুরার দিনে হজরত নুহ (আ.)-এর নৌকা ‘জুদি’ পাহাড়ে থেমেছিল বলে প্রচলিত আছে। এ কথা মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় এসেছে। কিন্তু তার সনদ ও বর্ণনাসূত্র দুর্বল। -মুসনাদে আহমাদ : ৮৭১৭
হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম: আশুরার দিন ঈসা (আ.)-এর জন্ম হয়েছিল বলে যে কথা প্রচলিত আছে তাও প্রমাণিত নয়। আবুল কাসিম ইস্পাহানি (রহ.)-এর কিতাব ‘আত-তারগিব ওয়াত তারহিব’-এর পূর্বোক্ত বর্ণনাতেই এ কথা এসেছে। যার সনদ খুবই দুর্বল।
হজরত মুসা (আ.)-এর মুক্তি: শুধু দুটি বিষয় এমন, যা আশুরার দিন ঘটেছে বলে প্রমাণিত। তা হলো-
এক. হজরত মুসা (আ.) ও তার সঙ্গীদের ফেরাউন ও তার সৈন্যদের থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা, যেখানে দরিয়ায় রাস্তা বানিয়ে আল্লাহতায়ালা তাদের নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছেন।
দুই. ওই রাস্তা দিয়ে অতিক্রম করার সময় ফেরাউন ও তার সৈন্যদের নদীতে ডুবিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।
এই দুটি ঘটনা বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিমসহ হাদিসের বহু গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
আরেকটি কথা, আশুরার দিনে সমাজে অনেক বানোয়াট বিষয় প্রচলিত আছে। এগুলো থেকেও বিরত থাকা কর্তব্য। যেমন আশুরার দিন সুরমা লাগানো, পিপাসার্ত থাকা, পেরেশান হওয়া, ক্রন্দন করা, গোশত না খাওয়া এবং বিশেষ পদ্ধতিতে নামাজ পড়া। এগুলো বানোয়াট কথা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস।
