তারেক-জোবাইদার সাজা

হাইকোর্টে দুপক্ষের আইনজীবীদের হাতাহাতি, ভাঙচুর

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৩, ০২:২৭ এএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে দুদকের মামলায় সাজা দেওয়ার জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তপ্ত বাক্যমিনিময়, হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি, ভাঙচুর, বার সভাপতি-সম্পাদকের নামফলক খুলে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। একপক্ষের ওপর অন্যপক্ষের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদকের কক্ষ ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। একপর্যায়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বেলা দেড়টার দিকে। গত বুধবার দেওয়া রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বারের দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময় সরকারদলীয় কয়েকজন আইনজীবী হলের একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বিএনপিবিরোধী সেøাগান দেন। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সেখান থেকেই তাদের উদ্দেশে চিৎকার ও হইচই করেন। এ সময় দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ালেও সরকারপন্থিরা চলে যান। একপর্যায়ে তারা সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের দোতলায় সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষের সামনে জড়ো হয়ে রায়ের পক্ষে এবং বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশে সেøাগান দিতে থাকেন। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা মিছিল করে সেখানে জড়ো হন। এ সময় দুই পক্ষের আইনজীবীদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুন নূর দুলালের কক্ষের সামনে থাকা নামফলক তুলে ফেলেন। কিছু সময় পর সম্পাদকের কক্ষের জানালার কাচ ও আশপাশে থাকা আসবাব লোহার চেয়ার দিয়ে আঘাত করে ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এরই মধ্যে একজন আইনজীবী দেয়ালে ঝুলে থাকা অগ্নিনিরোধক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) যন্ত্র থেকে গ্যাস ছোড়েন। এ সময় পুরো এলাকাটি কিছুক্ষণের জন্য ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে বার ভবনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিছুক্ষণ পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বার ভবনের নিচে এবং সরকারপন্থি আইনজীবীরা দোতলায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে ঘটনার জন্য একে অন্যকে দায়ী করে বক্তব্য দেন।

এদিকে ভাঙচুর ও বিরূপ পরিস্থিতির জন্য বিএনপির আইনজীবীদের দায়ী করে সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক আবদুন নূর দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট বারের হল বা রুমে কোনো আয়োজন করতে হলে সম্পাদকের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু তারা তা করেনি। উপরন্তু তারা অতর্কিতে আমাদের ওপর হামলা করেছে। ভাঙচুর করেছে। আমাদের অন্তত পাঁচজন আইনজীবী আহত হয়েছেন। একজনের (এ কে এম গোলাম সারোয়ার আমিন) হাত ভেঙেছে। তারা আইন-আদালতকে মানেন না। সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছেন।’ তিনি জানান, ভাঙচুড়ের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামালকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে কায়সার কামাল অবস্থান কর্মসূচিতে বলেন, তারা (সরকারপন্থি আইনজীবী) আমাদের একজন আইনজীবীর (জেসমিন সুলতানা) ওপর হামলা করেছে। নিজেরাই কক্ষে ভাঙচুড় করে আমাদের ওপর দোষ চাপাতে চাইছে। এর আগেও ভাঙচুরের ঘটনা দেখিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কায়সার কামাল বলেন, ‘দুদক সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে এ মামলা করে। মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে। নজিরবিহীন দ্রুততায় সরকারের নির্দেশে মাত্র ১৬ দিনে ৪২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে রায় দিয়েছেন বিচারক। সরকারের নির্দেশিত হয়ে বিচারক এ রায় দিয়েছেন। আমরা এ রায় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’ রায়ের প্রতিবাদে রবিবার সুপ্রিম কোর্ট বারসহ দেশের সবগুলো বারে কালো পতাকা মিছিল ও গত মঙ্গলবার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট বারের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট রফিকুল্লাহ। রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করা এ মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি নূর মোহাম্মদ। মামলায় আসামি হিসেবে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত