যাত্রী কল্যাণের প্রতিবেদন

জুলাই মাসে গাড়ি চাপা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৪.০৫%

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩, ০২:৫১ এএম

দেশে গত জুলাই মাসে ৫০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭৬ জন নিহত ও ১ হাজার ৫৫ জন আহত হয়েছে। একই সময় রেলপথে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া নৌপথে ১৬টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত, আহত ১৫ এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৫৬৮টি দুর্ঘটনায় ৬৪৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭৫ জন আহত হয়েছে। সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনায় ঘটে। আর ২৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩ দশমিক ০৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ বিবিধ কারণে ঘটে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটি। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবদনে দেখা যায়, এ সময়ে ১৮০টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৫ জন নিহত, ১২২ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ও আহতের ২৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৫৭টি। এ দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত ও ২৭১ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে বরিশাল বিভাগে ২৩টি। এতে ৩৮ জন নিহত ও ১৩৮ জন আহত হয়েছে।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৫৪ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৪২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৩৬ জন শিক্ষার্থী, ৮ জন শিক্ষক, ১১৭ জন নারী, ৬৪ জন শিশু, ১ জন সাংবাদিক এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে ১ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ৩ পুলিশ সদস্য, ১ নৌবাহিনীর সদস্য, ১ বিজিবি সদস্য, ১ ফায়ার সার্ভিস কর্মী, ১১৯ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭৭ জন পথচারী, ৮২ জন নারী, ৪২ জন শিশু, ২৯ জন শিক্ষার্থী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৭ জন শিক্ষক ও ৭ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩১টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২ দশমিক ৮৪ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ড ভ্যান ও লরি, ১৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাস, ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ নসিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ মাসে ঘটা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৪ দশমিক ১৫ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। এ ছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণের মধ্যে রয়েছেÑ দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক অবাধ চলাচল হয়েছে। এ ছাড়া অদক্ষ চালক দিয়ে বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালানোর জন্য অনেক জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংগঠনটি থেকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়ক পরিবহন আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া গণপরিবহন বিকশিত করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়।

৬ মাসে রেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৩১ : চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ১৩৭টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৩১ জন নিহত ও ১১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে সর্বাধিক ৪৪টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ৩৭ জন ও ৮ জন।

গতকাল ঢাকায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।

রেল পরিবহন ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনার ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে দুর্ঘটনার ৯টি কারণ চিহ্নিত করেছে এসসিআরএফ। সেগুলো হচ্ছে কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতা, সিগন্যালিং ব্যবস্থায় ত্রুটি, ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিং, ইঞ্জিনের সক্ষমতার অতিরিক্ত বগি সংযোজন, রেললাইনে পাথরের স্বল্পতা, ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, জনবল সংকট এবং নড়বড়ে ট্র্যাক তথা রেললাইনে নিম্নমানের স্লিপারসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার।

এসসিআরএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছে। মার্চে ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ৫ জন। এপ্রিলে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ২০ ও ৬৯। মে মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৪টি। এতে ২৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। জুনে ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ১৯ ও ১৩।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত