আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বিজেপি

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৩, ০১:৫৫ এএম

ভারতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছেন, তার দল এ অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাস দমনের স্বার্থে অতীতের মতো আগামীতেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। ভারত সফররত আওয়ামী লীগের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গতকাল সোমবার তার বাসভবনে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।

জেপি নাড্ডা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিজেপির দীর্ঘদিনের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে আমরা দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করে আমাদের এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। প্রতিনিধিদলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ডা. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী এবং সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত ও অধ্যাপক মেরিনা জাহান উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে জেপি নাড্ডা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বিজেপি সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন সব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় দৃষ্টান্ত, যা দেখে আমরাও খুশি। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বাংলাদেশেই নয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। বর্তমান সরকারের আমলে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর সমাধান হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে, যা দুই দেশের বন্ধুত্বের মাত্রাকে করেছে আরও শক্তিশালী। আমরা এ সম্পর্ক ধরে রাখতে দুই দেশের মধ্যকার সরকারের চলমান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই।’

বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বিজেপি সভাপতির সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিজেপির মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে দেশ দুটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা দলীয় পর্যায়ে বা সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছে।’

বিজেপি সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের আগে দলটির দিল্লির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের আলাদা বৈঠক হয়।

বৈঠকে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তড়ে বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দল সবসময় এ সম্পর্ক অটুট রাখতে কাজ করে যাবে।’

পরে ভারতের জাতীয় সংসদ ভবনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শঙ্করের সঙ্গেও সফররত আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠকে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে দুই দেশের মধুর সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত