কুয়েতের অর্থ না পাওয়ায় বাদ যাচ্ছে ৪৩ পৌরসভা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩, ০১:১৪ এএম

৩০ জেলার ৫৩ পৌরসভার উন্নয়নে ‘নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। ৮৬৫ কোটি টাকার প্রকল্পটিতে ৩৯৭ কোটির বেশি ঋণ দিয়েছিল কুয়েতি অর্থায়ন সংস্থা কেএফএইডি। পরে আরও ১৫ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার দেওয়ার আলোচনা চলছিল। ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আরও ৪৩টি পৌরসভাকে যোগ করলেও কুয়েত থেকে আর কোনো অর্থ না পাওয়ায় তা বাদ দিতে হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন ৪৩টি পৌরসভা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তকরণে অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে সংস্থাটির কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। এখন প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্যে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া জমি না পাওয়ায় বিদ্যমান প্রকল্পের পরিসরও কমিয়ে আনতে হচ্ছে। প্রকল্পটির ৫৩টি পৌরসভার মধ্যে অনেকগুলোতে জায়গা না পাওয়ায় ২৩টি পার্ক এবং খেলার মাঠের পরিবর্তে ৩টি, ৪৯টি ভেজিটেবল এবং এগ্রিকালচার মার্কেটের পরিবর্তে ২৮টি, ১০৫টি পাবলিক টয়লেটের পরিবর্তে ৪৮টি, ৫১টি যাত্রী ছাউনির পরিবর্তে ২২টিতে নামিয়ে আনতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসকরা এসব জায়গা ছাড় দিতে চাননি। তাছাড়া পৌরসভার মেয়রদের অদক্ষতাকেও দায়ী করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

২০১৮ সালের জুনে কুয়েত ফান্ড ও সরকারি অর্থায়নে ৮৬৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে একনেকে অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে কুয়েতের ঋণ ছিল ৩৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, বাকি ৪৬৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকার অর্থায়ন করেছে সরকার। কুয়েতি অর্থ ছাড়ের জটিলতার কারণে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে জুন ২০২৪ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্পটি সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকল্পে ১৫ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার অতিরিক্ত অর্থায়নের আলোচনা চলছিল। আলোচনার ইতিবাচক সাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন ৪৩টি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। প্রকল্পটির ওপর গত ডিসেম্বরে পিইসি সভা হয়। সভায় প্রকল্পের অনুকূলে কেএফএইডি থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে প্রকল্পের ডিপিপির প্রথম সংশোধন করা যেতে পারে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে নতুন ৪৩টি পৌরসভা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তকরণে অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে ঋণদাতা সংস্থাটির কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ৯ মে প্রকল্পটির ওপর পিইসি সভা হয়। সভায় সব পৌরসভা ভূমির অপ্রতুলতা ও অন্যান্য কারণে অনুমোদিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না, তা বাদ দিয়ে ডিপিপি সংশোধন করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়। সে আলোকে সংশোধিত ডিপিপির ওপর ডিপিইসি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কাজী সাইফুল কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, কুয়েতের দুটো ফান্ড কোনো রেসপন্স করছে না। বিষয়টি আমরা ইআরডিকে অবহিত করেছি। ইআরডি চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এখন ঋণদাতা সংস্থার সঙ্গে আমার আলোচনার কথা নয়, সেটির দায়িত্ব ইআরডির। কিন্তু তারাও ব্যর্থ। আমি সরাসরি দাতা সংস্থাকে লিখতে পারি না, ইআরডির পরামর্শে তাও লিখেছিলাম তাদের কাছে। আমি কুয়েতের সংস্থার কাছে লেখার পর তারা সতর্ক করে বলেছে, এ দায়িত্ব আপনার নয়। তিনি বলেন, এটি ইআরডিকে জানানোর পর তারাও দুবার চিঠি লিখেছে তাদের কাছে। কিন্তু সংস্থাটির যার সঙ্গে কথা হয় তারও করার কিছু থাকে না।

এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ৩০টি জেলার ৫৩টি পৌরসভায় নাগরিক চাহিদা পূরণে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ।

প্রকল্প প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকল্পে ১০২ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের জন্য ১২২ কোটি টাকার সংস্থান রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে ৭৯ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের জন্য ১২২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা চেয়েছে বিভাগীয় সভা। তবে প্রকল্প পরিচালক বলছেন, যেসব খাত বাদ দেওয়া হয়েছে, সেসব খাতের পরিবর্তে নতুন নতুন খাত যুক্ত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত