দেশে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিপসম মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ : করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা। প্রবন্ধে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে মৃত্যু ছিল ১৭৯ জনের। এবার আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই মৃত্যু অনেক বেশি। সুতরাং বাকি দিনগুলোয় আমরা মৃত্যু ঠেকিয়ে রাখতে পারব না। মৃত্যু আরও বাড়বে। মৃতের এ সংখ্যা দ্বিগুণও হয়ে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু এককভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্যা নয়, এটি এখন জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তারা বহু মানুষকে পরামর্শ দিচ্ছেন বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু বহু মানুষ কখনো হাসপাতালেই যায় না।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সময় লাগলেও মশা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব নয়। মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এখন আক্রান্ত রোগীকে যেন মশা না কামড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এখন প্রতিটি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে মশারির ভেতর রাখা নিশ্চিত করা দরকার।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন বলেন, আমাদের অনুরোধ, সরকার যেন এনজিও, প্রাইভেট সেক্টরকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কাজে যুক্ত করে। হাসপাতালের ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বল্পমেয়াদি জরুরি ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি ৫-১০ বছরের পরিকল্পনা নিতে হবে।
সেমিনারে পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. এসএম শহীদুল্লাহ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল, ডিএনসিসির সাবেক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জোবায়দুর রহমানসহ চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
