সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে ‘কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। এ টিম যেমন তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ব্যবস্থা নেবে, তেমনি সাইবার হামলা রোধেরও উদ্যোগ নেবে। জাতীয় পরিচয়পত্রÑ এনআইডি উইংয়ের সিস্টেম অ্যানালিস্টকে আহ্বায়ক করে ছয়জন সদস্য এবং একজন সদস্য সচিব নিয়ে আটজনের এই ‘কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেছে ইসি সচিবালয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চে বাংলাদেশের সরকারি একটি ওয়েবসাইট থেকে লাখ লাখ নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার খবর প্রথম প্রকাশিত হয় গত ৬ জুলাই। এরপর নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত জাতীয় তথ্যভাণ্ডারের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর হয় নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম গত বৃহস্পতিবার বলেন, ইসির তথ্যভাণ্ডার সুরক্ষিত। এরপরও এনআইডি উইংয়ের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করা হচ্ছে সেবাগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সার্বিক সহযোগিতা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখন ইসির এনআইডি উইংয়ের লোকবল নিয়ে একটি টিম করে দেওয়া হয়েছে। আগেও মনিটরিং করা হতো। এখন কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম নামে একটা বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্ট আক্তারুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে গঠিত কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমে আরও রয়েছেন উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডেটাবেজ) মেজর মো. মামুনুর রশীদ, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহাগ, প্রোগ্রামার মো. সিরাজুল ইসলাম, নেটওয়ার্ক কনসালট্যান্ট মো. শওকত আকবর মুনশি, ডেটাবেজ কনসালট্যান্ট টিপু সুলতান, সহকারী প্রোগ্রামার নুসরাত জাহান উর্মি এবং সহকারী প্রোগ্রামার আমিনুল ইসলাম।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে নির্বাচন কমিশনের জরুরি ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সাইবার বা ডিজিটাল হামলা হলে এবং সাইবার বা ডিজিটাল নিরাপত্তা বিঘিœত হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব থাকছে এই টিমের ওপর। এই টিম সম্ভাব্য ও আসন্ন সাইবার বা ডিজিটাল হামলা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও গ্রহণ করবে।
এ ছাড়া সরকারের অনুমোদন নিয়ে সমধর্মী দেশি/বিদেশি কোনো টিম বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবে এই ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম।
