জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমণির একমাত্র পুত্রসন্তান রাজ্যের জন্মদিন ছিল গত ১০ আগস্ট। সন্তানের প্রথম জন্মদিন বলে কথা! তাই আয়োজনের কোনো ত্রুটি রাখলেন না। পরী নিজের জন্মদিনেও একেক বছর একেকটি থিম বেছে নেন। প্রজাপতি, ময়ূর, ককপিটের থিমে নিজের জন্মদিন পালন করতে দেখা গেছে তাকে। এবার ছেলের জন্মদিনে গোটা আয়োজন সাজালেন পদ্মফুলের থিমে। কেন পদ্মকেই বেছে নিলেন পরী? এই প্রশ্নের উত্তর পরীভক্তরা জানেন। যারা জানেন না, তাদের জন্য বলা পরী রাজ্যকে জন্মের পর থেকেই আদর করে ডাকেন ‘পদ্ম’ নামে। তাই তো মা যেন সেজেছিলেন পদ্মফুলে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সবখানেই প্রশংসিত হয়েছে পরীর এই সাজপোশাক।
তবে কে কে এই পদ্মরূপী পরীর নেপথ্য কারিগর ছিলেন, কীভাবেই বা সম্পন্ন হলো নায়িকার পুরো সাজপোশাক, তা অনেকেরই আগ্রহের বিষয়।
থিম পদ্মই হবে, এ যেন অবধারিত
পরীমণি, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী

আমি কোনোদিনই একা একা আনন্দ উদযাপন করতে পারি না। কাছের মানুষ, প্রিয়জনদের নিয়ে আনন্দ করতেই আনন্দ পাই। আর সেই আয়োজন সুন্দর করতে এক ধরনের পরিকল্পনা তো করতেই হয়। এ জন্যই আমি একটু থিম বেইজ আয়োজন পছন্দ করি। আয়োজনের প্রতিটি জায়গায় সেই থিমের ছোঁয়া থাকবে, অতিথিরা একই রঙের পোশাক পরবেন আর আমিও সেই থিমের মধ্যে থেকে একটা ফ্যাশনেবল উপস্থাপন করব, সেটাই চাই। তবে রাজ্যর প্রথম জন্মদিনে থিম খুঁজতে আমাকে একটুও বেগ পেতে হয়নি। ও আমার জীবনে সহস্র কোটি দুষ্প্রাপ্য নীল পদ্ম, আমার পদ্ম সোনা। তাই তার জন্মদিনের থিম পদ্মই হবে, এ যেন অবধারিত ছিল। কিন্তু জন্মদিনের আয়োজনে আমি বেশি সময় ও বেশি চিন্তাভাবনাও করতে পারিনি। আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সেক্টরে আমার আস্থাভাজন লোকজন আছে, তাদের শুধু ছোট করে বলে দিয়েছি কী কী প্রত্যাশা আমার। সবাই যার যার বেস্টটা দিয়েছে। বিশেষ করে আপনারা যে সাজপোশাকের কথা বলছেন, তার জন্য আমার
পছন্দের ফ্যাশন ডিজাইনার রুহুল চৌধুরী আর মেকআপ আর্টিস্ট জাহিদ খানের কৃতিত্বই বেশি। তারা তাদের মেধা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে চমৎকার আউটপুট এনেছেন। ফাইনাল লুক দেখে নিজেই উচ্ছ্বসিত হয়েছি। আর নিজে কনফিডেন্ট থাকলে মানুষের কাছেও সেই লুক পছন্দ হবে, এটা কিন্তু স্বাভাবিক।
পোশাকে ১৭৮টি পাপড়ি ব্যবহার
রুহুল চৌধুরী, ফ্যাশন ডিজাইনার

আপু আমাকে জন্মদিনের ১০-১২ দিন আগে ফোন করে ড্রেস করতে বলেন। পরদিনই আমি আপুকে আমার কিছু লে-আউট পাঠাই। দুজন দিলে সব কটি লে-আউট থেকেই একটু একটু করে নিয়ে ডিজাইন ফাইনাল করি। এরপরই আমার দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। কারণ এটি আপুর জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট। তিনি নিজেও বলেছেন যে, রুহুল আমার ছেলের প্রথম জন্মদিনে তোর ডিজাইন পরলাম, এটা আমার আজীবন মনে থাকবে। তা ছাড়া পরীমণির ইভেন্ট মানেই পুরো দেশ তাকিয়ে থাকে, তিনি কী পরবেন সেটা দেখার জন্য। ফলে কতটা মানসিক চাপ নিয়ে কাজ করতে হয়েছে বুঝতেই পারছেন। সেই সঙ্গে মাত্র ১০ দিনে অমন একটি ডিজাইন রেডি করতে আমাকে প্রচুর কষ্টও করতে হয়েছে।
আপুর পোশাকের সবাই পছন্দ করেছেন ফ্রন্ট বডির পাপড়িগুলো। ওটা আমারই আইডিয়া ছিল। অরজিনাল পদ্মর পাপড়ির আদলে করা ২০টি আর নিচের পার্টে ১৫৮টি, মোট ১৭৮টি পাপড়ি ব্যবহার করেছি। সাদা কাপড় ডাই করে পুরোটা হ্যান্ডপেইন্ট করেছি, তারপর পাপড়ির শেপে কেটে সেলাই করা। পাপড়ির ওপর কিছু স্টোনওয়ার্কও করেছি। আপু যাতে কাপড়টি সহজে ক্যারি করতে পারেন তাই টিস্যু আর শার্টিন কাপড় ব্যবহার করেছি। সবকিছু মিলিয়ে কষ্ট হলেও ড্রেসটি আপু এবং সবাই পছন্দ করছেন, এটাই বড় প্রাপ্তি।
ডিওরের ছোট্ট ড্রপে বেজটা
জাহিদ খান, মেকআপ আর্টিস্ট

এবারও সাজ নিয়ে পরীমণি আমার সঙ্গে আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা করেননি। ড্রেসটা দেখতে কেমন, সেটাও আমি জানতাম না। আমাকে শুধু বললেন, পার্টি গাউন পরব, যার রঙ পদ্মফুলের। পরে নিজের মতো করেই পুরোটা করেছি। আমি পরীকে কখনোই বেশি সাজাই না। তিনি এমনিতেই এত সুন্দর যে, হালকা সাজেই অপ্সরীর মতো দেখায়! সাজে নো মেকআপ ট্রেন্ড চলছে, সেটিই করেছি। কারণ তাকে একই সঙ্গে আপটুডেট দেখাতে হবে এবং অনেক লম্বা সময় পর্যন্ত মেকআপটা ক্যারি করতে পারেন। ডিওরের ছোট্ট একটা ড্রপ দিয়ে পুরো বেজটা করেছি। হেয়ার স্টাইলটা অন্যরকম কিছু করতে চেয়েছিলাম, কারণ তার চুল অনেক লম্বা আর সুন্দর। কিন্তু পরী বললেন, তার ছেলে কোলে থাকবে, সব নষ্ট করে দেবে। তাই চুলগুলো তুলে হাই বান করে দিয়েছি। থিমটা যেহেতু পদ্মফুলের, তাই চুলগুলোতে একটা ফ্লোরাল ব্যাপার রেখেছি। আই মেকআপ পুরোটা ম্যাটের মধ্যে মানে স্কিন কালারই রেখেছি, কর্নারে ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা গোলাপি। কাজলটা দিয়েছি, আমাদের দুজনেরই পছন্দ বলে। আইল্যাশ ছিল একেবারেই ন্যাচারাল। সাজে নতুনত্ব এনেছি আই ভ্রু আর লিপে। সব সিম্পল রাখলেও একটা কোথাও তো এক্সপেরিমেন্টাল কিছু করতে হয়। সব ভ্রু ওপরের দিকে তুলে দিয়েছি। ঠোঁটের সাজেও পুরনো ট্রেন্ড ফিরিয়ে এনেছি। পরীকেও গাঢ় লিপ লাইনার দিয়ে একে ঠোঁটটা হালকা শেডে সাজিয়েছি।
