কঙ্গোর গোলযোগপূর্ণ উত্তর-কিভু প্রদেশে শিশুদের কলেরার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে ইউনিসেফ। গতকাল শুক্রবার সংস্থাটি জানায়, চলতি বছর পাঁচ বছরেরও কম বয়সী আট হাজারের বেশি শিশু কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি।
গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটি সংঘাতে জর্জরিত। এ কারণে বিপুল সংখ্যাক জনসংখ্যা বাস্ত্যুচ্যুত হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে ইউনিসেফ ২০২৩ সালে দেশব্যাপী ৩১ হাজার ৩৪২ জন শিশুর কলেরায় আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে কেবলমাত্র গোলযোগপূর্ণ কিভু-প্রদেশেই ২১ হাজার ৪০০ শিশু রয়েছে।
গোমায় অবস্থিত ইউনিসেফের সিনিয়র জরুরি সমন্বয়কারী শামেজা আবদুল্লাহ বলেন, কলেরা প্রাদুর্ভাবের ধ্বংসাত্মক যে হুমকি দিচ্ছে তার বিপদের ঘণ্টা বাজানো উচিত। যদি পরের মাসের মধ্যে জরুরি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে কলেরা এমন কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যেসব এলাকায় বহু বছর ধরে কলেরার প্রাদুর্ভাব ছিল না।
২০১৭ সালের এই রোগের মহামারি রাজধানী কিনশাসাসহ দেশের বিশাল অংশকে প্রভাবিত করেছে। সে সময় প্রায় ৫৫ হাজার শিশু আক্রান্ত হয় এবং ১১০০ জনেরও বেশি মারা যায়। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন গত জুনে বলেছে, এই বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে সংঘাতের কারণে পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইউনিসেফ বলেছে, যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছিল তাদের আশ্রয় দেওয়ার ধারণ ক্ষমতা শরণার্থী শিবিরগুলোর ছিল না এবং খারাপ পরিস্থিতি কলেরার বিস্তারকে সহজতর করছে। সংস্থাটি এই রোগের বিস্তার রোধে ও প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে ৬২.৫ মিলিয়ন তহবিলের জন্য আবেদন করেছে। কারণ সংস্থাটি বছরের শেষ নাগাদ এক মিলিয়ন শিশুসহ ১.৮ মিলিয়ন লোকের কাছে পৌঁছাতে চায়।
আরও পড়ুন: ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়ছে পাউরুটির দাম
