যুক্তরাজ্যের ভারতীয় সম্প্রদায়ে কন্যাভ্রুণ গর্ভপাতের হার সর্বোচ্চ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১১ পিএম

যুক্তরাজ্যে ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কন্যাভ্রূণ গর্ভপাত (সেক্স-সিলেক্টিভ অ্যাবোরশন) ব্যাপক হারে ঘটছে। ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতীয় মায়েদের মধ্যে প্রতি ১০০ মেয়ের জন্য প্রায় ১১৮ ছেলে জন্ম নিয়েছে। এটি দেশীয় গড় অনুপাত ১০৫ ছেলের ক্ষেত্রে ১০০ মেয়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাভাবিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনুপাত ১০৭ ছেলে প্রতি ১০০ মেয়ের বেশি হওয়া উচিত নয়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনুপাত নির্দেশ করছে যে যৌনভিত্তিক গর্ভপাত বা অন্যান্য হস্তক্ষেপ যেমন লিঙ্গ নির্ধারণ করে আইভিএফ পদ্ধতিতে ছেলে ভ্রূণ রোপণ করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে যৌনভিত্তিক গর্ভপাত বেআইনি। দেশের পরিসংখ্যান দপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো লিঙ্গ অসাম্য দেখা যায়নি।

কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, ভারতীয় পরিবারগুলো নারীকে চাপ দিয়ে কন্যা ভ্রূণ গর্ভপাত করতে বাধ্য করছে। গৃহনির্যাতন প্রতিরোধকারী দাতব্যসংস্থা জিনা ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা রানি বিলখু বলেন, 'ডেটা দেখাচ্ছে ছেলেদের প্রতি পক্ষপাত করা হচ্ছে। স্বামী বা পরিবারের চাপে অনেক নারী মেয়ের গর্ভপাত করতে বাধ্য হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'কিছু নারী এমন বিশ্বাসের সঙ্গে বড় হয়েছে যে ছেলে সন্তান বেশি মূল্যবান, ছেলে পরিবার নাম বহন করে, আর মেয়ে নয়। তাই তারা মনে করে ছেলে জন্ম দেওয়াই তাদের জন্য বেশি মূল্যবান।'
ভারতেও নারীভ্রূণ হত্যা বা ফিমেল ফেটিসাইড এর হার ব্যাপক। ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনে অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যায় প্রায় ৬৩ মিলিয়ন নারীর ঘাটতি রয়েছে। ২০১৭-১৯ সালে, প্রতি ১০০ মেয়ের জন্য ১১১ ছেলে জন্ম নিয়েছে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত